জামালপুর প্রতিনিধি : ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, যেখানে লেখাপড়া শিখে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের দক্ষ পরীক্ষক। প্যাথলজিস্ট কিংবা রেডিওগ্রাফার (রেডিওলজিষ্ট)। এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় পাশ করার পর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পান ছাত্রছাত্রীরা। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দেশে এমন ২৩টি সরকারি স্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
তবে সম্প্রতি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিসহ এমন ৮ টি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ হয়ে গেছে।
২০১৬ সালের দিকে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)।
অভিযোগ আছে, এই প্রতিষ্ঠানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লোকজন কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে একের পর এক
দৃষ্টিনন্দন একাডেমিক ভবন, ছাত্রাবাস, শিক্ষক নিবাস, ছাত্রীনিবাস ও অধ্যক্ষের বাসভবন নির্মাণ করলেও শিক্ষার জন্য নূন্যতম কোন কাজ হয়নি। দীর্ঘ ১০ বছরেও প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি কোন শিক্ষক-কর্মচারী।
২০১৯ সালে স্বাস্থ্য শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটিতে শুরু হয় ছাত্রছাত্রী ভর্তির কার্যক্রম। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৭ শতাধিক। অধ্যক্ষসহ তিনজন শিক্ষক এবং ১২ জন অতিথি শিক্ষক দিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর চলছিলো বৃহৎ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম ।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার ধর্মকুড়া এলাকায় স্থাপিত ‘শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি’ নাম পরিবর্তন করে ‘জামালপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি’ হিসেবে নামকরণ করা হয়। চলতি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে জামালপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিসহ এমন আটটি প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ‘ভর্তি নিষেধ’ করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ।
প্রশ্ন উঠেছে, শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের পর বিশাল ক্যাম্পাস, দৃষ্টিনন্দন একাডেমিক ভবন,ছাত্রাবাস, শিক্ষক নিবাস এবং অধ্যক্ষের নিবাসসহ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ইমারত গুলির কি হবে?
স্থানীয় আমজাদ হোসেন বলেন, ইনস্টিটিউটের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বিল্ডিং নির্মাণের নামে দুর্নীতি করে টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
ফাইজুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি বলেন, এটি প্রতিষ্ঠার সময় মনে করে ছিলাম। শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া ইসলামপুর উপজেলা শিক্ষার ক্ষেত্রে হয়তো বা কিছুটা হলেও এগিয়ে যাবে, কিন্তু আমাদের আশায় গুড়েবালি।
জামালপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিন অধ্যক্ষ ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর জামালপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিসহ এমন ৮টি স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ‘ভর্তি নিষেধ’ করেছেন। তাই চলতি শিক্ষা বছরজামালপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হবে না। কিন্তু কি কারণে ভর্তি করা হবে না। এব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি নন অধ্যক্ষ ডা. মো. মজিবুর রহমান।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমিন (চিকিৎসা শিক্ষা) এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১০ মিনিট পর কথা বলবেন বলে জানান। ১০ মিনিট পর ফোন করলে ৫ মিনিট পর তিনি নিজেই ফোন করবেন বলে জানান।
পরে একাধিক বার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেন নি চিকিৎসা শিক্ষা বিভাগের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
রিপোর্টার্স ২৪/এসএন