শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যুবদল নেতা কর্তৃক চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের টানা কর্মবিরতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
আজ শনিবার (১১ অক্টোবর) কর্মবিরতি পালন করছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এর ফলে হাসপাতালের সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, ফলে সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গত বুধবার (০৮ অক্টোবর) আনুমানিক দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে সেবা দেওয়ার সময়, কেদারপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক, রুবেল ঢালীর (পিতা-আবুল হোসেন ঢালী) নেতৃত্বে ৪-৫ জন সংঘবদ্ধ হয়ে ডা. কামরুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি, থাপ্পড় মারতে থাকে। এক পর্যায়ে শার্টের কলার ধরে টানতে টানতে তাকে বহির্বিভাগ ভবন থেকে বের করে মাঠে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগীর শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং তার শরীরে জখম হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক মহিলা রোগী এলার্জির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এলে চিকিৎসক তাকে আক্রান্ত স্থান দেখাতে বলেন। রোগী জানান দেখানো যাবেনা তখন তিনি বলেন তাহলে ছবি দেখান, রোগীর কাছে ছবি নেই জানালে চিকিৎসক জানান, এভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। পরে রোগী তার স্বজনদের জানালে তখন কেদারপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়কসহ কয়েকজন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও রুবেল ঢালী এক নার্সকে হেনস্তা করেছিলেন। হেনস্তার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে ওই নার্স বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হন।
এ ঘটনায় গত বুধবার (০৯ অক্টোবর) চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সারাদিন কর্মবিরতি পালন করে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রকাশ্য দিবালোকে শত মানুষের সামনে সরকারি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন চিকিৎসকের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি তার কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটির পর আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা এখনও হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্টাফরা নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে রয়েছেন ।
চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের অন্যান্য স্টাফদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানানো হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
রিপোর্টার্স২৪/প্রীতিলতা