রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিসহ শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে শাহবাগের সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে, শহীদ মিনার থেকে শিক্ষকরা রওনা হওয়ার পর তাদের শাহবাগ মোড়ের আগে আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় তারা ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড়ে চলে আসেন। দুপুর ২টা ৩ মিনিটের দিকে তারা শাহবাগে অবস্থা নেন।
তাদের স্লোগানে শাহবাগ এলাকা এখন উত্তাল। শিক্ষকরা ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ কর্মসূচি চলবে।
শহীদ মিনার থেকে রওনা দিলে দুপুর ২টার দিকে জাতীয় গ্রন্থাগারের আগেই ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় তাদের হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া-ভাতাসহ তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টানা চতুর্থ দিনের মতো অবস্থানের পর দুপুরে শাহবাগ ব্লকেড করতে রওনা দেন শিক্ষকরা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের ব্যাপক সমাগম দেখা যায়। এ সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের বিষয়ে অনড় থাকার ঘোষণা দেন শিক্ষকরা।
সকালে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেছেন, বাড়িভাড়া ২০ শতাংশের এক শতাংশও কম হবে না। চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৪৯৯ টাকা হলেও হবে না। আর কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশই দিতে হবে। না হলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। দাবি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহবাগে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করতে যাব।
এর আগে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। সে অনুযায়ী আজ দুপুরে আবার শাহবাগ ব্লকেডে যাওয়ার কথা শিক্ষকদের।
তিনি বলেন, আমরা আজ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সরকারকে সহযোগিতা করেছি। এ সহযোগিতাকে যদি দুর্বলতা ভাবেন তাহলে আপনারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ধৈর্যের একটা সীমা আছে। আমরা খোলা আকাশের নিচে খেয়ে না খেয়ে পড়ে আছি। সময়মতো নামাজ পড়তে পারছি না, সময়মতো খেতে পারছি না, ওয়াশরুম নেই। খোলা আকাশের নিচে শহীদ মিনারে আমাদের শিক্ষকদের রাতযাপন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের এ কষ্ট যদি সরকার আরও বেশি দীর্ঘায়িত করে তাহলে কিন্তু প্রশাসনকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না।
কর্মসূচি ঘোষণা করে অধ্যক্ষ আজিজী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামীকাল বুধবার দুপুর ঠিক ১২টার মধ্যে যদি প্রজ্ঞাপন জারি না করা হয়, ঠিক ১২টা ১ মিনিট থেকে ‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচি পালিত হবে। আমরা দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করবো।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন