| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ আহরণে মেঘনায় নামবেন লক্ষাধিক জেলে

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৪, ২০২৫ ইং | ০৪:২৭:০৭:পূর্বাহ্ন  |  ২০৮৪৯৪১ বার পঠিত
নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ আহরণে মেঘনায় নামবেন লক্ষাধিক জেলে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ শুরু হবে। আগামীকাল শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা। ইতোমধ্যে নদীতে মাছ আহরণের জন্য জাল ও নৌকা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলছেন জেলেরা। 

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের রামগতি থেকে চাঁদপুরের ষাটনকল এলাকা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে প্রায় লক্ষাধিক জেলে শনিবার মধ্যরাত থেকে মাছ আহরণ করতে নদীতে নামবেন। মা ইলিশ রক্ষায় সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অধিকাংশ জেলেরা তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করায় এবার ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করছেন জেলেরা। 

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর উপকূল এলাকায় অধিকাংশ মানুষ মৎস্য আহরণ ও কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জেলেরা অধিকাংশই গুল্টিজাল ব্যবহার করে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ আহরণ করেন। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ নিধন করায় তাদের আটক করে মামলা ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস জানায়, এবারের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন অভিযানে অসাধু জেলেদের আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ করে পোড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা জাঁটকা ইলিশ গরিব-দুস্থ ও এতিমদের মাঝে বিতরণ করা হয়। 

লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জাল ও নৌকা মেরামতের কাজে জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলে আনোয়ার মাঝি ও জহির হাওলাদার ওরা বলেন, সরকার মা ইলিশ রক্ষায় যে অভিযান দেয় তা আমরা মানি। তবে কিছু অসাধু জেলে নদীতে নেমে মাছ ধরে নিয়ে যায়। যে কারণে অভিযান শেষে নদীতে নেমে আমরা মাছ পাই না। আমারা ঋণ করে নতুন জাল ও নৌকা মেরামত করে নদীতে নামতে হয়। নদীতে নেমে মাছ না পেলে খুবই খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আর নিষেধাজ্ঞা সময়কালে সরকারের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে কিছুই হয় না। এখনকার বাজারের যে অবস্থা, জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি, সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালানো আমাদের অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

তবে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এবার তা অনেকটাই সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। দেখা যাক অভিযান শেষে কী পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ইলিশ সামুদ্রিক মাছ। ডিম ছাড়ার জন্য এই সময়টাতে মিঠাপানিতে ছুটে আসে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সরকার ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স তা সর্বাত্মক সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। অভিযানকালে জেলেদের খাদ্যসহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও জেলা টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযানে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল হওয়ায় এ বছর ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এতে করে ইলিশ সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য মতে লক্ষ্মীপুর জেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৫৫ হাজার। এর মধ্যে কার্ডধারী জেলে রয়েছে ৪৪ হাজার। তবে বেসরকারি হিসেবে জেলায় প্রায় লক্ষাধিক জেলে রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/আরকে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪