| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৩৯১৭ শিক্ষকের ৫১৯ কোটি টাকা অবসর ভাতা পরিশোধের উদ্যোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ২৮, ২০২৬ ইং | ১৬:০৬:১৬:অপরাহ্ন  |  ১৬৭০ বার পঠিত
৩৯১৭ শিক্ষকের ৫১৯ কোটি টাকা অবসর ভাতা পরিশোধের উদ্যোগ

রিপোর্টার্স ডেস্ক: অবসর গ্রহণের পর যে অর্থ শিক্ষকদের বার্ধক্যের শেষ সম্বল হওয়ার কথা ছিল, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, প্রশাসনিক জটিলতা এবং তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে তা এখন অনেকটাই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। বেসরকারি খাতের নয়টি ব্যাংকে গচ্ছিত শিক্ষকদের প্রায় ৭০০ কোটি টাকার তহবিল আটকে পড়ায় চরম অর্থ সংকটে পড়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড।

তবে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে ঝুলে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ৩ হাজার ৯১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর ভাতার ৫১৯ কোটি টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা আগামী জুলাই মাস থেকে বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও এই উদ্যোগ বিদ্যমান সংকটের তুলনায় এখনো সীমিত পরিসরের।

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আবেদনকারী ৩ হাজার ৭৫৭ জন এবং বিশেষ বিবেচনায় মৃত্যুবরণ করা ১৬০ জনসহ মোট ৩ হাজার ৯১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর ৫১৯ কোটি টাকা জুলাই মাস থেকে বিতরণ শুরু হচ্ছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত জমা হওয়া সব আবেদনের অর্থ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। এখন নতুন লক্ষ্য হিসেবে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০২২ সালের প্রথম ছয় মাসে জমা পড়া মোট ৩ হাজার ৭৫৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ পরিশোধের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মানবিক ও বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুবরণ করা আরও ১৬০ জন শিক্ষকের পাওনা অর্থও এবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপের এই বিশেষ উদ্যোগে মোট ৩ হাজার ৯১৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর সুবিধার আওতায় আনা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর জন্য মোট ৫১৯ কোটি টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট ৬৭ হাজার আবেদন এখনো অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে, যা মেটাতে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলে ৯টি বেসরকারি ব্যাংকে বিনিয়োগ করা শিক্ষকদের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বর্তমানে আদায়-সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে।

আর এই ধাপের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ে ২০২২ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ের আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির প্রস্তুতি চলছে।

তবে বিদ্যমান আবেদনজট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত মোট ৬৭ হাজার আবেদন এখনো অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজন প্রায় ৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থসংকট, বিনিয়োগকৃত তহবিল থেকে প্রত্যাশিত অর্থ ফেরত না পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আবেদন নিষ্পত্তির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যার মূলে রয়েছে ব্যাংকে জমা থাকা প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ফেরত না পাওয়া।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিক্ষকদের কষ্টার্জিত অর্থ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থা রেখে বিভিন্ন ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। সেই বিনিয়োগের একটি বড় অংশ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। সেসময় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে রাখা শিক্ষকদের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বর্তমানে আদায়-সংক্রান্ত জটিলতায় রয়েছে।

ফলে অবসর সুবিধা বোর্ডের তহবিলে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করা সরকারের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অবসর সুবিধা পরিশোধ কার্যক্রমে। সময়মতো অর্থ ছাড় করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন আবেদন যুক্ত হয়ে আবেদনজট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একই সঙ্গে অবসর সুবিধা বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আরও জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট-পরবর্তী অস্থির পরিস্থিতির পর বোর্ডের ব্যবহৃত পুরোনো সফটওয়্যারটিতে প্রবেশাধিকার পাওয়া যাচ্ছে না। পূর্ববর্তী তথ্যভাণ্ডারের উৎস ও কারিগরি কাঠামো সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে কর্মকর্তারা হাতে-কলমে, ফাইল বাই ফাইল যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির কাজ করছেন। এতে কার্যক্রমের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যে সময়ের মধ্যে হাজার হাজার আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল, সেই প্রক্রিয়ায় এখন দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

সারাজীবন শিক্ষকতা করেছি, কখনো নিজের জন্য কিছু করতে পারিনি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে রিটায়ার্ড করেছি। এখন পর্যন্ত টাকা পাইনি। অসুস্থ শরীর নিয়ে বারবার ঢাকায় আসতে হয় শুধু জানতে টাকা কবে পাব।
রবিউল ইসলাম, রংপুর থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত ভুক্তভোগী শিক্ষক।

এদিকে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টেও বিপুলসংখ্যক আবেদন ঝুলে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন সেখানে অনিষ্পন্ন অবস্থায় রয়েছে, যা সামগ্রিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মূলত, দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কল্যাণ ও অবসর-সুবিধাভিত্তিক দুটি পৃথক আর্থিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৯০ সাল থেকে শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। পরে ২০০৫ সালে চালু হয় অবসর সুবিধা কার্যক্রম। চাকরির মেয়াদ ও নীতিমালা অনুযায়ী অবসরের পর শিক্ষক-কর্মচারীরা এসব তহবিল থেকে এককালীন আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। বর্তমানে দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ৬ লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত বেতনের সরকারি অংশ থেকে প্রতি মাসে নির্ধারিত হারে চাঁদা কেটে সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা করা হয়। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ ট্রাস্ট ৪ শতাংশ পায়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সরকার প্রদত্ত বিশেষ বরাদ্দ, সিড মানি এবং গচ্ছিত তহবিলের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফাও এ দুটি প্রতিষ্ঠানের অন্যতম অর্থনৈতিক উৎস।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবসর সুবিধা কার্যক্রমের জটিলতা ও অর্থ সংকটের কারণে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষক অবসর সুবিধা বোর্ডে এসে ভিড় করছেন। কেউ আসছেন বারবার, শুধু নিজের ফাইলের অগ্রগতি জানতে, আবার কেউ এসেছেন বহু বছরের কষ্টার্জিত এই অর্থ কবে হাতে পাবেন—সে নিশ্চয়তা খুঁজতে। বয়সের ভার, অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়েও অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন (পুরাতন এলিফ্যান্ট রোড) প্রবাসী কল্যাণ ভবনের অস্থায়ী অফিসে আসছেন।

তারা বলছেন, শিক্ষকদের অনেকের কাছেই এই অবসর ভাতার টাকা এখন জীবনের শেষ ভরসা। কেউ চিকিৎসার খরচ মেটাতে, কেউ মেয়ের বিয়ে দিতে, কেউ আবার সংসারের ঋণ পরিশোধ বা বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে এই অর্থের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও অর্থ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ, আবার কারও মধ্যে নীরব হতাশা।

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব, যেখানে সরাসরি দেশের লাখো শিক্ষকের জীবন-জীবিকা জড়িত। ...অবশিষ্ট বিপুল সংখ্যক আবেদন ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তির জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে।

অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন লিটন, সচিব, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড।
রংপুর থেকে আসা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রবিউল ইসলাম বলেন, সারাজীবন শিক্ষকতা করেছি, কখনো নিজের জন্য কিছু করতে পারিনি। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে রিটায়ার্ড করেছি। এখন পর্যন্ত টাকা পাইনি। অসুস্থ শরীর নিয়ে বারবার ঢাকায় আসতে হয় শুধু জানতে টাকা কবে পাব। কেউ নির্দিষ্ট কিছু বলছে না, শুধু অপেক্ষা করতে বলছে।

ময়মনসিংহ থেকে আসা আরেক অবসরপ্রাপ্ত শফিকুল ইসলাম বলেন, এই টাকা পাওয়ার আশায় বছর পার হয়ে যাচ্ছে। এখন বয়স হয়েছে, কষ্টও বাড়ছে, কিন্তু কোনো সমাধান দেখছি না। নাজমা আক্তার নামের আরেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার। প্রতিবার এসে শুধু শুনি ফাইল প্রসেসে আছে। আমরা কি এতটাই অবহেলিত? সারা জীবন পড়ালাম, এখন নিজের চিকিৎসাটুকু করতেও কষ্ট হচ্ছে।

বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সরকারের গঠিত ৮ম পরিচালনা পরিষদের অধীনে। দীর্ঘ সময়ের স্থবিরতার পর গত ১৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ২১ সদস্যবিশিষ্ট এই পরিচালনা পরিষদ গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক। বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের বালাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন লিটন।

পরিচালনা পরিষদে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি ছাড়াও স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মাউশি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরাও এতে রয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অর্থসংকট, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং বিপুল আবেদনজটের মধ্যে দায়িত্ব নেওয়া এই পরিচালনা পরিষদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থবির হয়ে পড়া কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনা। এরই মধ্যে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর সুবিধা পরিশোধ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন  বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব, যেখানে সরাসরি দেশের লাখো শিক্ষকের জীবন-জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তা জড়িত। নতুন পরিচালনা পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একটি পরিকল্পিত কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ বরাদ্দের আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট বিপুল সংখ্যক আবেদন ধাপে ধাপে যাচাই-বাছাই করে নিষ্পত্তির জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সময়নিষ্ঠ হয়।

তিনি বলেন, শুধু অর্থ বরাদ্দই নয়, পুরো ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করাও জরুরি। এজন্য তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ, ডিজিটাল সিস্টেমের উন্নয়ন এবং মাঠপর্যায়ের যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তহবিল ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

রিপোর্টার্স/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪