রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আজ আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ শুনানি নেবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে সোমবার (২৭ অক্টোবর) হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাঠ করে শোনান এবং অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। তবে পলাতক আসামিদের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেনের বক্তব্য শোনার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
এই মামলায় হানিফ ছাড়াও আসামি হিসেবে আছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
গত ২৩ অক্টোবর এই চারজনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা পলাতক থাকায় ট্রাইব্যুনাল তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেয়। ১৪ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও হাজির না হওয়ায় জাতীয় দুই দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।
এর আগে ৬ অক্টোবর এই চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ৫ অক্টোবর দাখিল করা অভিযোগপত্রে তিনটি অভিযোগ আনা হয়—উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা।
অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে পৃথক মামলায় আনা আটটি অভিযোগ পড়ে শোনান প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। আসামিপক্ষ সময় প্রার্থনা করায় শুনানির তারিখ আজ ধার্য করা হয়। ইনুর আইনজীবী নাজনীন নাহার অভিযোগপত্রের ১ হাজার ৭০০ পৃষ্ঠা পর্যালোচনার জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন। ট্রাইব্যুনাল তাকে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে আসামির সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই জাসদ নেতা। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন তিনি।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, যার ভিত্তিতে এখন অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম