ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনামে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় আকাশ থেকে ঝরেছে রেকর্ড পরিমাণ ১০০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি! এই অস্বাভাবিক বর্ষণে দেশটির মধ্যাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। তলিয়ে গেছে ঐতিহাসিক পর্যটন শহর হুয়ে ও হোই আনসহ অসংখ্য জনপদ। ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ জন, আর নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ জন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভয়াবহ বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট বন্যায় ১ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি পানির নিচে চলে গেছে। সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৬ জন দা নাং শহর ও হোই আন অঞ্চলের বাসিন্দা—দু’টি এলাকাই ভিয়েতনামের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, হুয়ে ও হোই আন এলাকায় বন্যা সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শুধু এই দুই নগরীতেই প্লাবিত হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি বাড়ি।
প্রায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে (জুন-অক্টোবর) ভিয়েতনাম ঝড় ও বন্যার আঘাতে বিপর্যস্ত হয়। তবে এবারের বৃষ্টিপাতকে স্থানীয় আবহাওয়া দফতর বলছে “ইতিহাসের সর্বোচ্চ”। সোমবার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১০০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে হুয়ে ও হোই আন-এ।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে—হোই আন শহরের বড় অংশ ডুবে গেছে পানিতে, বহু বাড়ির ছাদ পর্যন্ত জল উঠে গেছে। হুয়ে শহরের ৪০টির মধ্যে ৩২টি উপজেলা সম্পূর্ণ পানির নিচে, যেখানে পানির গভীরতা ১ থেকে ২ মিটার পর্যন্ত।
দা নাং শহরের বেশিরভাগ জলাধার ইতোমধ্যেই ধারণক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছেছে। নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়ছে, ফলে নতুন করে পাহাড়ি বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকার সতর্ক করেছে—“নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকায় এখনো ব্যাপক বন্যা চলছে, ঝুঁকি এখনো শেষ হয়নি।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা আরও জানায়, কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, যানবাহন চলাচল বন্ধ। বিদ্যুৎ সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে বহু অঞ্চলে। রাজধানী হ্যানয় এবং বাণিজ্যিক নগরী হো চি মিন সিটির মধ্যে রেল যোগাযোগ মঙ্গলবার থেকে স্থগিত, যা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। কিছু এলাকায় বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও ৪০০ মিলিমিটারের বেশি হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম