রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও রাজধানীর বাজারে সবজির দাম ক্রেতাদের জন্য যেন দামের ছাঁদ হয়ে উঠেছিল। কেজিতে ৬০ টাকার কমে সবজি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। তবে এখন শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দাম কমে এসেছে, এবং ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম কমার ফলে অন্যান্য সবজির দামও কমেছে। শিম প্রতি কেজি এখন ৬০–৮০ টাকায়, ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০–৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুলা কেজিতে ৪০–৬০ টাকায়, আলু ২০ টাকায়, কাঁচা পেঁপে ও কচুর মুখি ৩০–৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ৫০–৬০, লম্বা বেগুন, করলা, বরবটি, কচুর লতি ৬০–৮০ টাকায় বাজারে রয়েছে। কাঁচা মরিচের দামও কমে ১০০ টাকার মধ্যে এসেছে।
বাজারে বিক্রেতাদের কথায়, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভালো মানের সবজি পাওয়ায় ক্রেতাদের উদ্বেগ কমেছে। রামপুরার এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “আগের মতো বাজারে অস্বস্তি নেই। দাম প্রায় ২০–৩০ টাকা কমেছে, তাই ক্রেতারা সহজে সবজি কিনতে পারছেন।
ডিম ও মুরগির বাজারেও স্বস্তির প্রভাব পড়েছে। ডিমের দাম ডজন প্রতি ১৩০ টাকা, যা কয়েক সপ্তাহ আগে ১৫০ টাকার কাছাকাছি ছিল। ব্রয়লার মুরগির কেজি দাম কমে ১৭০–১৮০ টাকায় এসেছে। তবে সোনালি জাতের মুরগি এখনও ২৮০–৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশ মাছের বাজারে ধীরগতির স্বস্তি: ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ আহরণ শুরু হলেও দাম এখনো চড়া। রামপুরা বাজারে ৩০০–৪০০ গ্রামের ছোট ইলিশ ৮০০ টাকা কেজি, আর ৮০০ গ্রাম সাইজের বড় ইলিশ ১৬০০–২০০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাছের দামও আগের মতোই চড়া।
পেঁয়াজ, রসুন ও ডালেও সামান্য হালকা চাপ : পেঁয়াজের বাজার এখন নিয়ন্ত্রণে। দেশি পেঁয়াজ ৭৫–৮০ টাকায়, দেশি রসুন ১০০–১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মসুর ডাল আগের মতো ১৫০–১৫৫ টাকা, কিন্তু আমদানি করা মসুর ডাল কেজিতে ৯৫–১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি কেজিতে ১০৫–১১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে ভোজ্যতেলের দাম অপরিবর্তিত।
বাজারের এই পরিবর্তন ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে। বিশেষ করে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে, যা প্রান্তিক ক্রেতাদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম