রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো: আতিয়ার রহমান বলেছেন, যেকোনো সফল ক্যারিয়ারের মূল উপাদান হলো অন্তর্ভুক্তি, স্বাধীনতা ও প্রাধিকার। এই তিনটি বিষয় যেখানে থাকে, সেখানে কর্মজীবন হয় স্বাচ্ছন্দ্যময় ও মর্যাদাপূর্ণ।একবিংশ শতাব্দীর চাকরির বাজারে কেবল একাডেমিক জ্ঞান নয়, প্রয়োজন বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা, যোগাযোগ দক্ষতা, ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স ও ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স। তিনি শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবজীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসময় উপাচার্য শিক্ষার্থীদেরকে নিজেদের আগ্রহ ও দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, যে পেশায় ভালোবাসা ও পারদর্শীতা এ দুটি জিনিসই থাকবে, সেটিই হবে জীবনের সেরা পেশা।
রোববার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ম্যানেজমেন্ট বিজনেস সোসাইটি (এমবিএস) ও Edulife IT Institute-এর যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত ‘ফ্রম ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার শীর্ষক ক্যারিয়ার উন্নয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আতিয়ার রহমান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, ম্যানেজমেন্ট অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন এবং প্রক্টর মো. সাদ্দাম হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
কর্মশালার মূল প্রেজেন্টেশন পরিচালনা করেন Edulife IT Institute-এর নির্বাহী পরিচালক আমির হোসেন রোজেল।
রোজেল তাঁর আলোচনায় বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট জব, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজের সুযোগ, পোর্টফোলিও তৈরির কৌশল, রিজুমে ও সিভি প্রস্তুতকরণ, লিংকডইনে পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ক্যারিয়ার উন্নয়নের পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে যে কেউ টিকে থাকতে চাইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রিসার্চ ও ইনোভেশন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদেরকে প্রজেক্ট ডেভেলপমেন্ট, আইডিয়া জেনারেশন ও প্রবলেম সলভিংয়ে এআই ব্যবহারের বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেন।
আয়োজকদের মতে, এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার বিষয়ে সচেতন করা, তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে পরিচিত করা। তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদেরকে এখন থেকেই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে নানা জিজ্ঞাসা উপস্থাপন করেন। তারা জানান, এ ধরনের কর্মশালা তাদের পেশাগত পরিকল্পনা ও আত্মউন্নয়নে সহায়ক হবে।
শেষাংশে অনুষ্ঠিত হয় ক্যারিয়ারবিষয়ক কুইজ, লটারি ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন এমবিএসের সভাপতি সৈকত বৈদ্য। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এমবিএসের সদস্য রবিউল ইসলাম কাউসার।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি