| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সাহায্যের আশ্বাসে ভরসা পেয়েছিল আছিয়ার পরিবার, আজ একাকী সংগ্রাম

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০২, ২০২৫ ইং | ১৩:২২:০৩:অপরাহ্ন  |  ১২৮৮৪০০ বার পঠিত
সাহায্যের আশ্বাসে ভরসা পেয়েছিল আছিয়ার পরিবার, আজ একাকী সংগ্রাম

মাগুরা প্রতিনিধি: একসময় যাদের আশ্বাসে ভরসা পেয়েছিল শিশু আছিয়ার পরিবার, আজ তারা নিঃসঙ্গ ও অসহায়। খাঁ খাঁ করছে আছিয়ার বাড়ি—না আছে মানুষের আনাগোনা, না আছে কারও সহানুভূতি। সেই আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর কেটে গেছে কয়েক মাস, কিন্তু এখন আর কেউ খবর নেয় না এই শোকাহত পরিবারটির।

মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকার আছিয়ার পরিবার আজও বেঁচে আছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। ছয় মাস না যেতেই থমকে গেছে সব সাহায্য, থেমে গেছে সহমর্মিতার স্রোত।

সরেজমিনে দেখা যায়, আছিয়ার বাবা ফেরদৌস শেখ মানসিক প্রতিবন্ধী। এক সময় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন, এখন পুরোপুরি অক্ষম। মা আয়েশা বেগম সংসার চালান দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে। সাত শতক জমির ওপর সরকারের দেওয়া একটি ঘরই তাদের একমাত্র ভরসা। বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের ভারে জর্জরিত এই পরিবার এখন গাভির দুধ বিক্রির টাকাতেই টিকে আছে।

আছিয়ার মা আয়েশা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার এখন বড় কষ্ট লাগে, কেউ আর পাশে নেই। খোঁজই নেয় না—বেঁচে আছি না মরেছি! জামায়াতে ইসলামীর নেতারা একটা গোয়ালঘর করে দিয়েছিল, গরু কিনে দিয়েছিল। সেই গরুর দুধ বিক্রি করেই এখন সংসার চলে। কিন্তু যাদের আশ্বাসে ভরসা পেয়েছিলাম, তারা কেউ আর খবর নেয় না।”

তিনি আরও বলেন, “আছিয়া মারা যাওয়ার পর অনেকে পাশে দাঁড়িয়েছিল। তখন যতটুকু সাহায্য করার করেছে। কিন্তু আছিয়ার বাবার চিকিৎসার পর থেকে কেউ আর খোঁজ নেয়নি। আমি মেয়ের হত্যার বিচার চেয়েছিলাম, কিন্তু আজও সেই বিচার পাইনি।”

চলতি বছরের ১ মার্চ জারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ৮ বছরের আছিয়া বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় সে ধর্ষণের শিকার হয়। পরদিন সকালে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল ও সিএমএইচে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ দুপুরে মৃত্যু হয় তার।

ঘটনার পর সারাদেশে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠন পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেয়। বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম নয়ন চিকিৎসার দায়িত্ব নেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বাড়িতে গিয়ে সহায়তা দেন এবং একটি গোয়ালঘর নির্মাণ করে দুটি গাভি উপহার দেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সব আশ্বাস ফিকে হয়ে গেছে। এখন গাভির দুধই একমাত্র আয়ের উৎস এই পরিবারের।

মামলার বিষয়ে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, “আছিয়া হত্যা মামলায় তখন আমি তদন্ত কর্মকর্তা ছিলাম। মামলার রায় হয়েছে—প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিল পর্যায়ে রয়েছে।”

রিপোর্টার্স২৪/আরকে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪