| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বেনাপোলে ফের সক্রিয় রাঘব-বোয়াল চক্র

মামলার তদন্তে গাফিলতি, ধরাছোঁয়ার বাইরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৮, ২০২৫ ইং | ১০:২০:৪০:পূর্বাহ্ন  |  ১২৮৬১৬৫ বার পঠিত
মামলার তদন্তে গাফিলতি, ধরাছোঁয়ার বাইরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেট

বেনাপোল প্রতিনিধি : সরকার পতনের পর এক বছরেরও বেশি সময় গা ঢাকা দিয়ে থাকা স্বর্ণ চোরাচালান চক্র আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনী ব্যস্ততার সুযোগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত ব্যবহার করে বেনাপোলসহ যশোর অঞ্চলে জোরেশোরে শুরু হয়েছে স্বর্ণ পাচার। বিজিবির নিয়মিত অভিযানে একের পর এক স্বর্ণের চালান আটক হলেও, নেপথ্যের গডফাদাররা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনী প্রস্তুতির ব্যস্ততায় যখন প্রশাসনের মনোযোগ অন্যদিকে, তখনই সুযোগ নিচ্ছে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো। গত তিন মাসে বিজিবির হাতে আটক হয়েছে দেড় ডজনেরও বেশি স্বর্ণের চালান।

এরমধ্যে গত ২৩ অক্টোবর যশোর সদর উপজেলার চাঁনপাড়া বাজার থেকে ১২টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারী আটক করে বিজিবি। ২৬ অক্টোবর মুড়লি মোড় এলাকায় ৮টি স্বর্ণের বারসহ শেখ অলিউল্লা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৪টি স্বর্ণ বারসহ সৌরভ বিশ্বাস ও রণজিৎ বিশ্বাস নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এছাড়া আগস্ট মাসজুড়ে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭০টিরও বেশি স্বর্ণ বার উদ্ধার করা হয়। এমনকি ওই মাসে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুকুরের পানি ছেঁকে ২১টি বার উদ্ধার করা হয়, যা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

সাতক্ষীরা সদরের আলিপুরে সম্প্রতি আটক নাসরিন নাহার নামের এক নারী পাচারকারীর শরীর তল্লাশিতে ৬টি স্বর্ণ বার উদ্ধার হয়েছে। এতে সিন্ডিকেট চক্রে নারী সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, স্বর্ণসহ আটককৃতরা সাধারণত বহনকারী মাত্র। তাদের কাছ থেকে সীমিত তথ্য মেলে। মামলাগুলোর অধিকাংশই বহনকারীর নামেই শেষ হয়। তবে যশোর জোনের ইন্সপেক্টর তুষার কান্তি মণ্ডল জানিয়েছেন, কয়েকটি মামলায় গডফাদার শনাক্তের অগ্রগতি হয়েছে, প্রমাণ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যশোর, বেনাপোল, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার সীমান্ত এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রুট। ভারতের কলকাতা সীমান্ত ঘেঁষা এসব এলাকায় সহজ যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার কারণে পাচারকারীরা সহজে চলাচল করতে পারছে।

৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, জব্দ হওয়া চালানগুলোর স্বর্ণ ঢাকায় সংগ্রহ করে যশোর হয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রতিবারের মতো এবারও ধরা পড়ছে কেবল বহনকারীরা। মামলাগুলোর তদন্তে স্বর্ণ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের ধরার উদ্যোগ না থাকলে সীমান্তে সোনার পাচার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। 

রিপোর্টার্স২৪/আরকে

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪