রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলেকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিচারকের স্ত্রীকে আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ডাবতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত তাওসিফ রহমান সুমন (২০) রাজশাহী মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের ছেলে। এই ঘটনায় তাওসিফের মা তাসমিন নাহার আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ঘাতককে আটক করেছে পুলিশ।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর বিশ্বাস বলেন, একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, ঘাতক আটক আছে। তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
জানা গেছে, বিচারকের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে হত্যার অভিযোগ পূর্ব পরিচিত যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, ক্রমাগত টাকা চাওয়ার পরও না দেয়ায় এই ঘটনা ঘটতে পারে। নিরাপত্তার শঙ্কায় বিচারকের পরিবার ১০ দিন পূর্বে সিলেটে করেছিলেন সাধারন ডায়রিও (জিডি)। কিন্তু এরপরও থামানো যায়নি হতাহতের ঘটনা। তবে এ ঘটনায় বিচার সংশ্লিস্ট বিষয়ের কোন সূত্র পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়ার জানিয়েছে, রাজশাহী নগরীর সিটি হাট বাইপাসের ডাবতলা এলাকার স্পার্ক ভিউ নামের দশতলা ভবনের ৫ তলায় একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন বিচারক আব্দুর রহমান ও তার পরিবার। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেল তিনটা নাগাদ পূর্ব পরিচিত যুবক লিমন মিয়া সেই বাসায় প্রবেশ করেন বিচারকের ভাই পরিচয়ে। প্রবেশের আধা ঘণ্টা পর বাড়ির গৃহকর্মী নিচে থাকা দারোয়ানকে খবর দেন হতাহতের। তৎক্ষণাৎ মূল ফটক বন্ধ করে ফ্লাট থেকে আহত অবস্থায় লিমন মিয়া, বিচারক আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাসনীম নাহার লুসী এবং তাদের পুত্র সন্তান তাওসিফ রহমানের রক্তাক্ত দেহ নিচে আনা হয়।
তিনজনকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাওসিফ রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুইজন মুমূর্ষ অবস্থায় এখনও হাসপাতালে ভর্তি।
তবে কি নিয়ে কিভাবে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তা পরিস্কার নয়। পুলিশ বলছে, তাসনীম নাহার লুসী পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় গত ৩ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় লিমন মিয়ার নামে একটি সাধারন ডায়রি করেছিলেন। যেখানে উল্লেখ আছে, কোন্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে লিমনের সঙ্গে তাদের পরিচয়। এরপর থেকেই নানা ভাবে সে তাসনীম নাহারের কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিতেন। না দিতে চাইলে মেরে ফেলার হুমকিও দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তাওসিফ রহমানের ডান পায়ে উরুর কাছে বড় কাটা ক্ষত পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের ধারণা ধারালো কিছুর আঘাতে এটি কেটে গিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে রাত ৮টার দিকে ঘাতক লিমন মিয়ার জ্ঞান ফিরেছে। হাসপাতালেই তাকে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এখনও মুমূর্ষু তাসনীম নাহার।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব