কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা-নরসিংদী সড়ক হয়ে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রবেশপথের পুটিয়া বটতলা বাজার এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ডুবে আছে। টোক-কাপাসিয়া ও কটিয়াদি-নিকলী রোডের গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ পুরো এলাকায় স্থাপন করা হয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শতাধিক সৌর ল্যাম্পপোস্ট। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, নিম্নমানের যন্ত্রাংশ এবং চুরি-সংক্রান্ত ঘটনার কারণে এগুলোর অধিকাংশই এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর।
গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বেশিরভাগ বাতি ও কেব্ল চুরি হয়ে যায়। ফলে খুঁটি দাঁড়িয়ে থাকলেও লাইট নেই- এ অবস্থায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ বাড়ছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর নিরাপত্তা ও চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নিজস্ব অর্থে ল্যাম্পপোস্ট মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান। তাঁর এই পদক্ষেপে এলাকাজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাতে তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের পুটিয়া বটতলা বাজারের কয়েকটি নষ্ট সৌরবাতি নিজ হাতে মেরামত করেন। এ সময় গণঅধিকার পরিষদ ও যুব অধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
হাসান আহমেদ রমজান জানান, বিগত সরকার ‘গ্রাম হবে শহর’ স্লোগানে উপজেলার সর্বত্রই সৌর ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করেছিল। প্রতিটি ল্যাম্পপোস্ট তৈরি ও স্থাপনে সরকারের খরচ হয়েছে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা। কিন্তু সীমাহীন দুর্নীতি, নিম্নমানের প্যানেল ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে দ্রুতই এসব লাইট অকেজো হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ‘অন্ধকারের সুযোগে অপরাধ বাড়ছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে নিজস্ব অর্থে লাইট মেরামতের কাজে নেমেছি। এই জনসেবা অব্যাহত রাখতে সবার দোয়া চাই।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বে থাকা কিছু ঠিকাদার, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলাজুড়ে অধিকাংশ ল্যাম্পপোস্টের শুধু খুঁটি দাঁড়িয়ে আছে, বাতি নেই, কেবল নেই। কয়েকটি স্থানে প্যানেল থাকলেও আলো জ্বলে না। অন্ধকারের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, চুরি ও ছিনতাই।
অনন্য পরিবহনের বাসচালক আসলাম মিয়া বলেন, লাইট না থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। অন্ধকারে পথ দেখা যায় না, ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুক্ষীণ হতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবিদ হোসেন বলেন, নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণেই দ্রুত বাতিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। অন্ধকারে অপরাধ বেড়ে গেছে। অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা হয়নি বলেও জানান তিনি।
পাকুন্দিয়া উপজেলার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনিমুল হক বলেন, ৫ আগস্টের পর অধিকাংশ বাতি চুরি হয়ে গেছে। বরাদ্দ না থাকায় মেরামত সম্ভব হয়নি। দ্রুতই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সৌর বাতি বন্ধ থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে। বাতিগুলো চালু থাকলে পুলিশের কাজেও সুবিধা হতো।
এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ ও স্থানীয়দের এগিয়ে আসায় অচল ল্যাম্পপোস্টগুলো আবারও আলো ছড়াবে, কমবে দুর্ঘটনা ও অপরাধ।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে