রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিচারকের ছেলে হত্যা ও স্ত্রীকে আহত করার ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আটক আসামির বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচারের কারণে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মামুনুর রশীদ এ আদেশ দেন। আগামী ১৯ নভেম্বর আরএমপি কমিশনারকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মহানগর আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আশরাফ মাসুম।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের নগরীর রাজপাড়া থানার ডাবতলা এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযুক্ত লিমন মিয়া (৩৫) কৌশলে প্রবেশ করে তার পুত্র তাওসিফ রহমানকে ধারালো ছুরি দিয়ে একাধিক আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। একই সঙ্গে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে পুলিশ লিমনকে আটক করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখা যায়, পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় লিমন মিয়া ভুক্তভোগীদের দোষারোপ করে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বক্তব্য দিচ্ছেন। যা ‘আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বনাম রাষ্ট্র (৩৯ বিএলডি ৪৭০)’ মামলাসহ সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আদালত মন্তব্য করে।
সেই প্রেক্ষিতে আদালত প্রশ্ন তোলে- পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় একজন আসামিকে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে কেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে আগামী ১৯ নভেম্বর তাকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত মিস কেসও খোলা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরদিন শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে নিহত তাওসিফ রহমান সুমনের বাবা বিচারক আব্দুর রহমান বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি লিমন মিয়া গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার মদনেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
গত শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে রামেক হাসপাতালে নিহত তাওসিফের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে মরদেহ জামালপুরে দাফন করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকার ওই ভাড়া বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন লিমন মিয়া এবং তাওসিফের মা তাসমিন নাহার লুসি। তারা বর্তমানে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা