পবিপ্রবি প্রতিনিধি: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) চলমান প্রশাসনিক অচলাবস্থার প্রতিবাদে ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগত সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শান্তিপূর্ণভাবে চলমান মানববন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচির একপর্যায়ে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পবিপ্রবির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন,
“পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক স্থবিরতা চলছে, যা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী—সকলেই অনুভব করছেন। এ অবস্থায় ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি ছিল একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। কিন্তু সেখানে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অনভিপ্রেত ঘটনা। ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার চাকরিজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে আচমকা হামলার ঘটনা এবারই প্রথম দেখলাম। মানববন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচি গণতান্ত্রিকভাবে মতপ্রকাশের একটি মাধ্যম। সেখানে সহিংসতা কখনোই কাম্য নয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এদিকে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ জানতে চেয়েছেন—কীভাবে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করল, কারা তাদের নিয়ে এলো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন কার্যকর ছিল না।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন