| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সন্ধ্যা নামতেই স্কুল প্রাঙ্গণে বসে জুয়া–মাদকের আসর

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ১৬, ২০২৫ ইং | ১২:০৭:১১:অপরাহ্ন  |  ১২৫৭০৯৪ বার পঠিত
সন্ধ্যা নামতেই স্কুল প্রাঙ্গণে বসে জুয়া–মাদকের আসর

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠছে অনিরাপদ ও অরক্ষিত মাদকের আখড়া। অনেক ক্যাম্পাসে বহিরাগত বখাটেদের আড্ডা ও মাদকের আসর চলছে হরহামেশাই।

বখাটেরা আড্ডা ও মাদকসেবনের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি করে নিয়ে গেলেও নেই প্রশাসনের তেমন নজরদারি। এতে অনেকটা নিরুপায় হয়ে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনই বখাটে মাদকসেবীরা বিদ্যালয়ের মাঠ, বারান্দা ও ছাদে মাদকের আসর বসাচ্ছে। তারা রাতভর মাদক সেবন ও বিক্রির কার্যক্রম চালায়। স্থানীয়রা তাদের কাছে অসহায়। মাদকসেবী ও বখাটেদের এমন তাণ্ডব অস্বস্তিকর। তারা মাদক সেবনের পর গভীর রাতে আশপাশের বাড়িতে ঢুকে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়।

মাদকের এমন সহজলভ্যতার কারণে স্কুল–কলেজে পড়ুয়া তরুণেরাও আশঙ্কাজনকভাবে মাদকের দিকে ঝুঁকছে। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় গাঁজা থেকে শুরু করে বাংলা মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদক সেবন ও কেনাবেচা হচ্ছে। অভিজাত পরিবারের অনেক সন্তান এ মাদকের নেশায় ভয়াবহভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করছেন কয়েকজন অভিভাবক।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) সরেজমিনে সদর উপজেলার স্বল্প যশোদল দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন রয়েছে। আশপাশে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম পড়ে আছে। পাশাপাশি মাদকসেবীদের বসার জন্য বিদ্যালয়ের পেছনে খড় বিছানো রয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নিলা আক্তার বলেন, প্রায়ই স্কুলের বারান্দায় খালি বোতল ও সিগারেটের ঠোঙা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে আমাদের খুবই খারাপ লাগে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবীর বাবা বলেন, তাঁর ছেলে নেশাগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে পরিবারে সব সুখ নষ্ট হয়ে গেছে। শত চেষ্টা করেও তাকে নেশার জগৎ থেকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ ছিঁচকে মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করলে মাদক নির্মূল কখনোই সম্ভব নয়। যাদের আশ্রয়ে এসব মাদক বিক্রি হয়, তাদের গ্রেপ্তার করলে মাদক নির্মূল সম্ভব।

স্বল্প যশোদল দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি বলেন, বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান উন্নয়ন, ছাত্র–ছাত্রী বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সার্বিক উন্নতির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি। বিদ্যালয়টি এলাকার সম্পদ। তবে দুঃখের বিষয়—রাত হলেই বিদ্যালয়টি বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ফোনে সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেসব বিদ্যালয়ে এমন সমস্যা আছে সেখানে মাঝেমধ্যে পুলিশের টহল দেয়া হবে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪