| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চাঁদপুরে মাদকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ইং | ০৬:৪৩:২২:পূর্বাহ্ন  |  ১২৪৯৩০৫ বার পঠিত
চাঁদপুরে মাদকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে দিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র

চাঁদপুর প্রতিনিধি : চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের বড় ধরনের অভিযানের পর কয়েক বছর বন্ধ থাকলেও আবার মাদকের ভয়াবহতা বেড়েছে আশিকাটি ইউনিয়নের উত্তর এলাকায়। একটি সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্র গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে মাদক প্রবেশ করাচ্ছে। যার ফলে মাদকসেবী ও বিক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতোমধ্যে কিছু মাদক কারবারিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।

গত কয়েক দিন ওই এলাকার লোকজনের কথায় উঠে এসেছে ইউনিয়নের উত্তর এলাকার ৪ নম্বর ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের ভয়াবহতার চিত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইউনিয়নজুড়ে মাদক কারবারি আছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ রালদিয়া থেকে পশ্চিম হোসনপুর গ্রামের বডুর বাজার সংলগ্ন মোল্লা কান্দি এবং দরিক্ষণ রালদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ইউনিয়ন পারিবারিক স্বাস্থ্য ক্লিনিক পর্যন্ত মাদক কারবারিদের আনাগোনা বেশি। বিকেল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত এসব এলাকায় চলে মাদকসেবন ও কেনাবেচা।

একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকার যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার লোকদের মাদকের সঙ্গে জড়াচ্ছে। চক্রের সদস্যদের মধ্যে অন্যতম পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের হাসিম গাজীর ছেলে রুবেল গাজী ওরফে গাজী কালু। সে এলাকায় মাদক এনে খুচরা বিক্রি করে। তার বাবা হাসিম গাজীও অনেক আগের চিহ্নিত মাদক কারবারি।

এছাড়াও প্রকাশ্যে মাদকসেবন ও বিক্রিতে জড়িত আছে দক্ষিণ রালদিয়া গ্রামের আনোয়ার খানের ছেলে কামরুল খান। তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। একইভাবে প্রকাশ্যে মাদকসেবন ও বিক্রিতে জড়িত পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের আলফু গাজীর ছেলে মাসুদ গাজী। কামরুল খান ও মাসুদ গাজীর প্রকাশ্যে মাদকসেবনের চিত্র এখন মানুষের হাতে হাতে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এসব এলাকায় মাদক প্রবেশ করানোর কাজ করেন দক্ষিণ রালদিয়া গ্রামের মৃত এনায়েত খানের ছেলে আবুল খায়ের খান। মূলত তিনি একজন মাদক পাচারকারী।

এই ইউনিয়নে প্রায় ৪ বছর আগে মাদক কারবারে জড়িত ছিল পতিত সরকারের বিভিন্ন দলীয় পদে থাকা কতিপয় ব্যক্তি। তাদের মাদক থেকে সরিয়ে আনতে সদর মডেল থানা পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্ক করে দেয়। অভিভাবকদেরকে সতর্ক করার পর দেড় থেকে দুই বছর মাদকের ভয়াবহতা কম ছিল। তবে গত বছর ৫ আগস্টের পর মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, সন্তানদের নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ মাদকে জড়িতদের সঙ্গে মিশে তারাও বিপথগামী হচ্ছে। প্রশাসন এদের আইনের আওতায় না আনলে এই এলাকার লোকজন সন্তানদের নিয়ে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হবে। একই সঙ্গে এলাকায় অপরাধমূলক কাজও বৃদ্ধি পাবে।

তারা আরও বলেন, আমরা এসব বিষয় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, সদর সার্কেল ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। মাদকের এই ভয়াবহতা থেকে পরিত্রাণ চাই। এলাকাবাসী তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ।

চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান বলেন, ওই এলাকার স্থানীয় লোকজন আমাদের কাছে মাদকের ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছে। পুলিশ কাজ করছে। মাদকে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪