রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ নিষ্ক্রিয় করিডোর নয়, বরং একটি সক্রিয়, সার্বভৌম ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অঙ্গনে ভূমিকা রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবে, প্রয়োজন হলে দৃঢ় অবস্থানও নেবে, তবে সবকিছুই হবে জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সামনে রেখে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি অংশীদারত্বকে অবশ্যই বাস্তব সুবিধা দিতে হবে। ক্ষমতার জ্যামিতিতে যারা থাকবেন তারা বড় ও মধ্য শক্তির সঙ্গে সমানভাবে সম্পৃক্ত হবেন, কিন্তু সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌম সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নিজেকে একটি সক্রিয়, সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল প্লেয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।বাংলাদেশ নিষ্ক্রিয় করিডোর নয়, আত্মবিশ্বাসী হয়ে চলতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবে, প্রয়োজনে দৃঢ়ভাবে কথা বলবে এবং সর্বদা হবে জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উৎপাদনশীল অংশীদার।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর অঞ্চল দ্রুত কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে এবং বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এ অঞ্চলকে শুধুই করিডোর হিসেবে নয়, বরং আত্মবিশ্বাসী ভূমিকায় পরিচালনা করতে চায়।
বিশ্বে স্থিতিশীলতার সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউক্রেন, গাজা, সুদান ও মিয়ানমারের পরিস্থিতি বৈশ্বিক সংকট ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করেছে। “আমরা ভঙ্গুরতার মূল্য জানি,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদান রেখেছে এবং মানবিক সংকট কত দ্রুত বেড়ে যেতে পারে তা জানে।
তিনি জানান, স্থিতিশীলতা শুধু আঞ্চলিক নয়, এটি বৈশ্বিক অপরিহার্যতা। এজন্য কার্যকর বহুপাক্ষিক ও আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি—যা কেবল কথায় নয়, বাস্তব কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ, সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান এবং নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি