নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছীতে ভাতার টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। এলাকার সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য তাহমিনা আক্তার এবং তার স্বামী প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।
তাহমিনা বেগম বদলগাছী উপজেলার ৩নং পাহাড়পুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য এবং স্বামী মিজানুর রহমান, উপজেলার শেরপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি।
আত্মসাৎ এর বিষয়টি জানাজানির পর বদলগাছীর পাহাড়পুরে চলছে ক্ষোভের ঝড়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাঁচঘরিয়া গ্রামের প্রতিবন্ধী স্ত্রী মোসা. মুক্তা (৪০) প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার জন্য স্থানীয় মহিলা সদস্য তহমিনার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। তহমিনা ২০২৩ সালের ১ জুলাই তার নামে ভাতার কার্ড করে দেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে ভাতাভোগীর মোবাইল নম্বর না দিয়ে তহমিনার স্বামী মিজানুর রহমানের নম্বর বসিয়ে দেন। এরপর থেকে নিয়মিত ভাতা তুলছেন ওই প্রধান শিক্ষক।
কিন্তু চলতি নভেম্বরের মাঝামাঝিতে নতুন ভাতার আবেদন নিতে সমাজসেবা অফিস থেকে ঘোষণা দেওয়ার পর মুক্তা অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, তার নামে আড়াই বছর ধরে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পরে এলাকাজুড়ে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
মুক্তা বলেন তিন বছর আগে মেম্বার তহমিনা আমার কাগজপত্র নিয়েছিলো। বারবার জিজ্ঞেস করলে বলতো হয়ে যাবে। কিন্তু আমি কোনো টাকা পাইনি। সমাজসেবা অফিসে কয়েকদিন আগে গিয়ে শুনলাম, আমার নামে ভাতা তো হয়েছে অনেক আগে,তবে মোবাইল নম্বর আমার না মেম্বারের স্বামীর।
তিনি আরও জানান, এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মহিলা মেম্বারের স্বামি মিজানুর মাস্টার ,হাড়পুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর মাস্টার ও মাসুদ মেম্বার বাড়ি এসে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আফসার আলী বলেন, এক প্রতিবন্ধী নারীর ভাতার টাকা আত্মসাৎ কোনো সাধারণ অন্যায় নয়। এটি তার বেঁচে থাকার আশাকে চুরি করা।
আরেক বাসিন্দা নুরুল হোসেন বলেন, যে শিক্ষক তার ছাত্রদের মানুষের মতো মানুষ তৈরি করবেন, তিনিই যদি এমন করেন তাহলে সমাজ কোথায় যাবে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ- সভাপতি মিজানুর রহমানকে মুঠোফোনে পাওয়া গেলেও তিনি বলেন, মুঠোফোনে কিছু বলা যাবে না, সাক্ষাতে কথা বলবো। তারপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
অপরদিকে মহিলা সদস্য তহমিনা দাবি করেন, ভুল করে এমনটি হয়েছে। এখন সংশোধন হয়েছে। তাছাড়া আমার স্বামীর সাথে মুক্তার বিষয়টি মিমাংসা করেছেন।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বলেন, এটি স্পষ্ট অনিয়ম। আমরা মোবাইল নম্বর সংশোধন করেছি। আবেদনকারীকে নিজের নগদ নম্বর ব্যবহারের পরামর্শ সবসময় দেই।
এলাকাবাসী মনে করছেন একজন শিক্ষক তিন বছর ধরে ভাতা তুলে থাকলে, এমন ঘটনা আরও থাকতে পারে। তদন্ত শুরু হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু