রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকা খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির প্রকৃত চিত্র এখন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, একের পর এক দুর্বলতা উন্মোচিত হওয়ায় আর্থিক স্থিতিশীলতা বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল অর্থসূচক আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এগুলো বহুদিন লুকানো ছিল, এখন প্রকাশ পাচ্ছে। যেমন শরীরে বহু রোগ লুকিয়ে থাকে জেনে গেলে মানুষ আরও বিচলিত হয়।
তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে এবং বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমেছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। পাঁচ ব্যাংক এক করা বা প্রশাসক নিয়োগ ছাড়া কার্যকর কোনো উদ্যোগ সরকার নেয়নি বলেও সমালোচনা করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে দেবপ্রিয় বলেন, স্বচ্ছতা এড়াতে চেয়েছিল বলেই সাংবাদিকদের আটকে দেওয়া হয়েছিল। আমলাতন্ত্র আগের সরকারকে “চৌর্যবৃত্তি” করতে সহায়তা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিদেশি বিনিয়োগ ঘোষণায় তাড়াহুড়া ও অপ্রকাশযোগ্য চুক্তিকে (এনডিএ) তিনি অস্বচ্ছতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, অংশীজনের অংশগ্রহণ ছাড়া বড় সিদ্ধান্ত টেকে না।
সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জ্বালানি, গ্যাস, ব্যাংক তারল্য ও ব্যবসায়িক বাধা এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সংস্কার এখন জরুরি বলে মত দেন অর্থনীতিবিদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সচিব ফারুক হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদসহ সাংবাদিক ও গবেষকরা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি