নিজস্ব প্রতিবেদক : ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা ছিল, আগামীর নির্বাচনে বিএনপি অবধারিতভাবে ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গন দ্রুত এমন অনিশ্চয়তায় ঘেরা হয়ে ওঠে যে কোনো দল সম্পর্কে নিশ্চিত পূর্বাভাস দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
১৫ মাস পর যখন নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে, তখন দেশের রাজনৈতিক মাঠে সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতকে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে এই দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যেই।
২৪-এর ছাত্র আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা নেতাদের নিয়ে গঠিত এনসিপিকে (ন্যাশনাল কনসেনসাস প্ল্যাটফর্ম) নিয়ে শুরুতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল—আসন্ন নির্বাচনে দলটি বড় ভূমিকা রাখবে এবং আসন বণ্টনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রথমদিকে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিলেও পরে বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির আলোচনায় যাওয়ায় দলটির জনসমর্থন ও রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশ্লেষকদের মতে, একটি দল কতটা আসন ভাগাভাগি করবে সেটি নির্ভর করে দলটির সক্ষমতার ওপর। কতটি আসন পেতে সক্ষম হয় তার ওপর। সে জায়গায় এনসিপির অবস্থান এখনও দুর্বল।
এনসিপির আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো সম্ভাব্য জোট রাজনীতি। ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)’, ‘গণ অধিকার পরিষদ’, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ ও ‘জেএসডি’র সঙ্গে যে জোট গঠনের আলোচনা ছিল, সেটিও আপাতত থমকে আছে। শেষ পর্যন্ত এই জোট বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা জানা যাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর।
এদিকে সারাদেশে জোর প্রচারণায় নেমেছে বিএনপি এবং জামায়াত। অধিকাংশ আসনে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত, এবং প্রার্থীরা নিজস্ব নির্বাচনী ইশতেহার সামনে রেখে জনগণের কাছে প্রচারণা চালাচ্ছেন। মাঠের রাজনীতি পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞদের অভিমত—মাঠে যে দু’টি শক্তিশালী রাজনৈতিক দল সবচেয়ে গোছানোভাবে নিজেদের প্রস্তুত করেছে, তা হলো বিএনপি ও জামায়াত।
এদিকে এনসিপির কোন প্রার্থীকে এখনও মাঠে প্রচারণায় দেখা যায়নি। তাই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মনে হচ্ছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মূল প্রতিযোগিতা হবে এই দুই দলের মধ্যেই।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন