ফরিদপুর প্রতিনিধি: দুর্নীতি দমন কমিশনের বিচারাধীন মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা থাকা অবস্থায় মারা গেলেন ফরিদপুরের বোয়ালমারীর আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান ওরফে সোনা মিয়া (৫০)। শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান।
রোববার (৩০ আগস্ট) রূপাপাত ইউনিয়নের কদমী গ্রামসংলগ্ন খেলার মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় তিন মাস আগে সোনা মিয়া হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২১ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে আনারস প্রতীকে নির্বাচিত হন সোনা মিয়া। চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই স্থানীয়ভাবে তার প্রভাবশালী পরিচিতি তৈরি হয়। সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ গাজীপুরের এসপি থাকাকালে বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন এবং অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হন।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হলেও তিনি দ্রুতই বিএনপির ঘনিষ্ঠ মহলে নিজ অবস্থান তৈরি করেন। একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও কখনো তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হতে দেখা যায়নি। নানা সমালোচনার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুবরণ করলেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি