আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাভাষী মুসলিমদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার ঘটনা সামনে এসেছে। এসবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন ও তার ছেলে এবং দুই পরিবারের আরও ছয়জন।
জানা গেছে, তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। তাদের পরিবারের সদস্যরা এ ব্যাপারে আদালতে দাবি করেন। ভারতীয় আদালতের হস্তক্ষেপের পর সোনালী খাতুন ও তার ছেলেকে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে অন্য চারজনের ফেরতের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্ত এবং বিচারপতি জয়মালা বাগচি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন, সোনালী খাতুনের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে। বেঞ্চের বক্তব্য, কিছু ক্ষেত্রে মানবিক কারণে আইনকে নমনীয়ভাবে প্রয়োগ করতে হয়।
ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, সরকার মানবিক কারণে সোনালী খাতুন ও তার ছেলে সাবিরকে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তাদের ফেরত আনার সময় নজরদারি বজায় রাখা হবে এবং মামলার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
গত জুনে সোনালী ও তার ছেলেকে দিল্লি থেকে ধরে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পুলিশ দাবি করে তারা অবৈধ বাংলাদেশি, তবে সোনালীর বাবা বধু শেখ আদালতে তার মেয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের ভারতীয় নাগরিক প্রমাণের চেষ্টা করেন। এরপর কলকাতা হাইকোর্ট ছয়জনকে ফেরত আনার নির্দেশ দেয়।
সর্বশেষ, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, সোনালী যদি বাবা বধু শেখের সঙ্গে বায়োলজিক্যাল পরিচয় প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে তার ভারতীয় নাগরিকত্ব অক্ষুণ্ণ থাকবে।
এই মামলাটি মানবাধিকার এবং নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি