রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদকে রক্ষার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক স্বার্থ নয়, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এমন আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, মাছ কেবল বাজারের পণ্য নয়, এটি সরাসরি মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘সুস্থ সাগর (হেলদি ওশান)’শীর্ষক ইনসেপশন কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এই কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি (ডব্লিউসিএস) এবং ওয়ার্ল্ডফিশ।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, মৎস্য অধিদপ্তর সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, আমরা কোন দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি? শুধুমাত্র বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে মাছ আহরণ করা চলবে না। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাই বাণিজ্যিক লাভের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ক্ষতিকর জাল ব্যবহারকে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। বঙ্গোপসাগরের সামগ্রিক অবস্থার উদ্বেগজনক তথ্যও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। জাতিসংঘের গবেষণা জাহাজ ড. ফ্রিডৎজফ ন্যান্সেন-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সাত বছরে বঙ্গোপসাগরে মাছের প্রাপ্যতা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমেছে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে অক্সিজেনের ঘাটতি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্লাস্টিক দূষণ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে সব খবরই নেতিবাচক নয়। ফরিদা আখতার জানান, সাম্প্রতিক জরিপে বঙ্গোপসাগরে আরও ৬৫টি নতুন মাছের প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রজাতি আগে বিশ্বের কোথাও শনাক্ত হয়নি, যা বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি অতিরিক্ত মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও জোর দিয়ে বলেন, বড় বড় জাহাজ নিয়ে ইচ্ছেমতো মাছ ধরার দিন শেষ। গভীর সমুদ্রে যেসব ট্রলার চলে, তাদের অবশ্যই নিয়ম-কানুনের আওতায় আনতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিব-ইন-চার্জ) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কমোডর শেখ মাহমুদুল হাসান এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ।
এছাড়া ডব্লিউসিএস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফারুক-উল ইসলামও বক্তব্য রাখেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম