বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরে হত্যার হুমকির দুই দিন পর প্রেমিকের বাড়ির উঠানের আমগাছ থেকে নাদিরা খাতুন (১৬) নামের এক কিশোরীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। নিহত নাদিরা রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী মকতুল হোসেনের একমাত্র কন্যা ও ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
নাদিরার মা অভিযোগ করেন, নাজমুলের পরিবারের লোকজন মিলে নাদিরাকে হত্যা করেছে। ঘটনা ভিন্নখাতে দেখানোর জন্য মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
শিল্পী বেগম জানান, গত দুই বছর ধরে তার মেয়ে নাদিরার সঙ্গে রামকৃষ্ণপুর গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাজমুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাজমুল শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ওই দৃশ্য গোপনে ক্যামেরায় ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ও করেছে। গত মাসে নাজমুল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নাদিরাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে কয়েক দিন রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
দুই দিন আগে নাজমুলের চাচাতো ভাই মিরাজুল নাদিরাকে হত্যার হুমকি দেয়। হুমকির দুই দিন পর তাদের বাড়ির উঠানের আমগাছে নাদিরার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
শিল্পী বেগম বলেন, “নাদিরা প্রেমিক নাজমুলের জন্য পাগল ছিল। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি ছিল না। বিয়ের দাবিতে আগেও নাদিরা দুই দিন নাজমুলের বাড়িতে যায়, কিন্তু পরিবারের লোকজন তাকে তাড়িয়ে দেয়। চাকরির কারণে নাজমুল ঢাকায় থাকেন। বিয়ের কথা বললেই বলে, ‘তুমি আমাদের বাড়িতে গিয়ে বাবা-মাকে রাজি করাও।’”
সোমবার সন্ধ্যায় নাজমুলের সঙ্গে নাদিরার প্রায় ২০ মিনিট মোবাইলে কথা হয়। এরপর রাতে নাদিরা ওই বাড়িতে যায়। কিন্তু এবার লাশ হয়ে ফিরে এসেছে।
শিল্পী বেগম অভিযোগ করেন, “নাজমুলের পরিবার নাদিরাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। ঘটনা ভিন্নখাতে দেখানোর জন্য মৃতদেহ বাড়ির উঠানের আমগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
নিহতের স্বজনরা জানান, নাজমুল ও তার পরিবারের সদস্যরা নাদিরাকে প্রায়ই হুমকি দিতেন। এ ঘটনায় নাজমুল ছাড়াও তার সহযোগী মিরাজুল ইসলাম, ফায়জুর, নাঈম, টেপা হোসেন ও বাবুর নামে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিল নাদিরা। এরপর থেকে তারা ক্ষুব্ধ ছিল। এর জের ধরে নাদিরাকে খুন করা হতে পারে। মঙ্গলবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে নাদিরার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে নাজমুলের পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। তবে তাদের ঘনিষ্ঠ দুই জন দাবি করেছেন, ওই রাতে বিয়ের দাবিতে নাদিরা প্রেমিক নাজমুলের বাড়িতে গিয়েছিল। সম্পর্ক মেনে না নেয়ার কারণে নাদিরা আমগাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শিমন হালদার জানান, নাদিরার মৃত্যু নিয়ে দুই পক্ষ ভিন্ন দাবি করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হত্যা না আত্মহত্যা নিশ্চিত করা যাবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন