বাগেরহাট প্রতিনিধি: আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন অক্ষুণ্ণ রাখায় জেলায় স্বস্তি ও আনন্দ বিরাজ করছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সর্বোচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) করা আপিল খারিজ করে দেয়। ফলে দীর্ঘদিনের আন্দোলন, আদালতযাত্রা ও জনদাবির প্রেক্ষিতে জেলার মানুষ আগের সীমানা অনুযায়ী চারটি আসনই পাচ্ছে।
রায়ের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক সাড়া পড়ে। জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াত নেতারা এ সিদ্ধান্তকে জনগণের বিজয় হিসেবে দেখছেন এবং উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের স্বার্থে চারটি আসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, বাগেরহাট এমনিতেই উন্নয়নে পিছিয়ে। এখানে একটি আসন কমিয়ে তিনটিতে নামানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা জেলার মানুষের প্রতি অবিচার ছাড়া কিছু ছিল না। আদালত জনগণের দাবি ও ন্যায্যতার পক্ষে রায় দিয়েছেন এটা আমাদের জন্য বড় স্বস্তি। বাগেরহাটের মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বয় আরও কার্যকর হবে।
জেলা জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের আমির মাওলানা রেজাউল করিম রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাগেরহাটের ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাগত বাস্তবতা বিবেচনায় চারটি আসনই যুক্তিসঙ্গত। ইসির সিদ্ধান্ত ছিল তড়িঘড়ি ও জনস্বার্থবিরোধী। আদালত সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছেন। এতে জেলার মানুষের কণ্ঠস্বরই প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বলেন, একটি আসন কমে গেলে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মোংলা বন্দর, উপকূলীয় শরণখোলা–মোরেলগঞ্জসহ একাধিক অঞ্চলে উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
দীর্ঘদিনের জটিলতা শেষে রায় পাওয়ায় বাগেরহাটে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে মানুষের মাঝে উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশা চারটি আসন বহাল থাকায় এখন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু