আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীন ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক মহড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পারমাণবিক সক্ষম বি-৫২ কৌশলগত বোমারু বিমান বুধবার জাপান সাগরের আকাশে জাপানের এফ-৩৫ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেয়। আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনাকে শক্তি প্রদর্শনের পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে টোকিও।
বৃহস্পতিবার(১১ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, উভয় দেশ ‘বলপ্রয়োগে একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা বদলের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে’ যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
চীনের সামরিক মহড়া শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রথম শক্তি প্রদর্শন। এর আগে মঙ্গলবার পূর্ব চীন সাগর ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চীন ও রাশিয়ার যৌথ বোমারু বিমান উড্ডয়ন এবং চীনা বিমানবাহী রণতরীর মহড়া নিয়ে জাপান উদ্বেগ প্রকাশ করে। সেই মহড়ায় চীনা রণতরীর যুদ্ধবিমান জাপানি জেটকে রাডার লক করেছিল বলে দাবি করে টোকিও, যদিও বেইজিং অভিযোগ অস্বীকার করে।
ওয়াশিংটন ঘটনাটিকে ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর’ বলে মন্তব্য করে এবং জাপানের প্রতি তাদের ‘অটল প্রতিশ্রুতি’ পুনর্ব্যক্ত করে।
জাপানের যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল হিরোয়াকি উচিকুরা বলেন, চীন-রাশিয়ার যৌথ বোমারু উড্ডয়ন স্পষ্টতই জাপানের উদ্দেশে শক্তি প্রদর্শন।এটি আমাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়, তিনি জানান।
এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি এ বিষয়ে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং দুই দেশের মহড়ার বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যৌথ মহড়া দু’দেশের বার্ষিক পরিকল্পনার অংশ এটি নিয়ে জাপানের ‘হইচই করার কিছু নেই’।
দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান ঘিরেও উত্তেজনা
একই দিনে দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, চীন ও রাশিয়ার বিমান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলে প্রবেশ করলে তারাও যুদ্ধবিমান পাঠাতে বাধ্য হয়।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানায়, দ্বিতীয় দিনের মতো চীনা সামরিক তৎপরতা বেড়েছে ২৭টি বিমান, যার মধ্যে পারমাণবিক সক্ষম এইচ-৬কে বোমারু বিমানও ছিল, দ্বীপটির চারপাশে ‘যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি টহল’ চালায়।
বুধবার রাতে চীনা জে-১৬ ও এইচ-৬ সিরিজের বিমান আবারও তাইওয়ানের দক্ষিণ দিয়ে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে দীর্ঘ দূরত্বের মহড়া চালায়।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার পেছনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এক মন্তব্যকে দায়ী করছে বেইজিং। গত মাসে তিনি চীনের সম্ভাব্য হামলার জবাবে জাপানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করলে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
চীন গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে। দ্বীপটি জাপানের উপকূল থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে এবং টোকিওর কৌশলগত জলপথের কাছেই হওয়ায় জাপানও এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
রয়টার্স /রিপোর্টার্স২৪/এসসি