রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : মানবজীবনে অন্যায়, কষ্ট বা অপমানের মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক। এসব পরিস্থিতিতে অন্তরে প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে ওঠা মানুষের স্বভাবজাত প্রবণতা। কিন্তু ইসলামে প্রতিহিংসা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। ইসলাম প্রতিহিংসাকে সমর্থন করে না; বরং ন্যায়বিচার, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা ও আল্লাহর উপর ভরসাকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
যদিও ইসলাম প্রতিশোধকে উৎসাহিত করে না, তবে শাস্তি দেয়াকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধও করা হয়নি। আল্লাহ বলেন “ যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে তোমাদের ওপর যে অত্যাচার করা হয়েছে তার সমপরিমাণ শাস্তিই দেবে।” (সুরা নাহল, ১৬:১২৬)
অর্থাৎ প্রতিশোধ নিতে চাইলে অত্যাচারের মাত্রা সমান হতে পারে, তার বেশি নয়। কিন্তু সেই সঙ্গে আল্লাহ আরও বলেন “কিন্তু যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর—তবে সেটাই অবশ্যই উত্তম।” এটি পরিষ্কার বার্তা দেয় যে শুধু সমপরিমাণ শাস্তিই ন্যায্য, তবে ক্ষমাই সর্বোত্তম।
প্রতিহিংসা দমন করে ক্ষমা করতে কুরআন ও হাদিসে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সুরা আল-ইমরানের ৩:১৩৪ আয়াতে বলা হয়েছে-
“আর যারা রাগ দমন করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন।” এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, ক্ষমা করা শুধু সামাজিক গুণ নয়—এটি আল্লাহর প্রিয় বান্দার বৈশিষ্ট্য।
প্রতিহিংসার ক্ষতি সম্পর্কেও বারবার সতর্কতা দেয়া হয়েছে। প্রতিহিংসাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে, প্রতিহিংসা হৃদয়ে ঘৃণা বাড়ায়, ঘৃণা সমাজে বিবাদ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে, মানুষকে জুলুমে ঠেলে দিতে পারে, আত্মিক শান্তি নষ্ট করে
এ কারণে কুরআনে বলা হয়েছে—
“অবশ্যই শয়তান তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায়।” (সুরা মায়িদা, ৫:৯১)। অর্থাৎ প্রতিহিংসা শয়তানের কৌশল।
নবী করীম (সা.) জীবনে বহু নির্যাতন ও অপমান সহ্য করেছেন, তায়েফের মানুষের পাথর নিক্ষেপ করেছে, কিন্তু তিনি কখনো প্রতিহিংসায় জড়াননি।
মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তার নির্যাতকদের বলেছিলেন—
“আজ তোমাদের ওপর কোনো প্রতিশোধ নেই। তোমরা সবাই মুক্ত।” এটাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা।
ইসলাম প্রতিহিংসাকে সমর্থন করে না; বরং সংযম, ধৈর্য, ন্যায়বিচার ও ক্ষমাশীলতাকে শ্রেষ্ঠ গুণ হিসেবে নির্দেশ করে। প্রয়োজন হলে ন্যায্য প্রতিকার পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ক্ষমা আল্লাহর দৃষ্টিতে সর্বোত্তম। প্রতিহিংসা মানুষকে নীচে নামায়, আর ক্ষমা মানুষকে মহান করে তোলে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন