| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কুড়িগ্রামে সরকারি সারের ডিলার বাজারে নেই, কৃষকরা দুশ্চিন্তায়

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ ইং | ০৯:৩২:০২:পূর্বাহ্ন  |  ৩৭৯১৪৬ বার পঠিত
কুড়িগ্রামে সরকারি সারের ডিলার বাজারে নেই, কৃষকরা দুশ্চিন্তায়

কুড়িগ্রামে প্রতিনিধি: খাতা-কলমে সরকারী সারের ডিলারের থাকার কথা থাকলেও সেই বাজারে বাস্তবে নেই কোনো সার ডিলার। তিনি ব্যবসা করছেন একই জেলার একই উপজেলার ভিন্ন ইউনিয়নে। সেখানে নেই তার কোনো বৈধ ডিলারশীপ। নিয়ম ভঙ্গ করে চললেও গত ১০ বছরে কৃষি কর্মকর্তারা বিষয়টি নজরে আনেননি।

ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নে। বিধিমতে, ওই ইউনিয়নে সরকারী সারের ডিলারের উপস্থিতি থাকা উচিত ছিল আশিক বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মমিনুল ইসলাম। তবে ডিলার নেওয়ার ১০ বছর অতিবাহিত হলেও তিনি একদিনের জন্যও সেখানে সার বিক্রি করেননি। বরং তিনি একই উপজেলার ভিন্ন ইউনিয়নে সার বিক্রি করছেন। ফলশ্রুতিতে ওই এলাকার কৃষকরা সরকারী ন্যায্য মূল্যের সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এতদিন ধরে তারা জানে না তাদের বাজারে সারের ডিলারশীপ আছে। তাই তাদের খুচরা বাজার থেকে বেশি মূল্য দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের আমতলী বাজারে গিয়ে দেখা যায় সেখানে তিনটি খুচরা সার দোকান রয়েছে। এর মধ্যে আশিক বীজ ভান্ডারের ডিলার পয়েন্ট থাকার কথা। তিনি ২০১০ সালে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের বীজ বিপননের লাইসেন্স নিয়েছিলেন। পরে একই গুদাম ঘর দেখিয়ে তিনি সারের ডিলার হয়েছেন।

আমতলী এলাকার বাসিন্দা হযরত আলী (৫৬) বলেন, এখানে যে ডিলার আছে তা আমরা জানি না। কে ডিলার, কোন দোকান তার, জানি না। আমরা খুচরা দোকান থেকে বেশি দামে সার কিনি। আমরা চাই এখানে ডিলার আসুক।”

আরেক কৃষক রমজান মিয়া বলেন, খুচরা বাজারে যারা সার বিক্রি করে, তারা প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেশি দাম নেন। আমরা কৃষকরা নিরুপায়। আমরা কম দামে সার পাই না। প্রথমে এখানেই জানতে পারলাম যে বাজারে ডিলার পয়েন্ট আছে, কিন্তু কখনো দেখিনি। আমরা চাই, আমাদের এখানে ডিলার থাকুক যেন কম দামে সার কিনতে পারি।

স্থানীয় শিক্ষক অতুল চন্দ্র রায় বলেন, আমি ৩০–৩২ বছর ধরে এখানে কৃষি কাজ করি। প্রতি বছরই আমাদের সার আনতে হয় পাশের ইউনিয়ন থেকে। আমরা জানিই না যে এখানে ডিলার পয়েন্ট আছে। চাহিদা থাকলেও সার পাই না। আমরা চাই এখানে ডিলার আসুক। কৃষি অফিস ব্যবস্থা নিক।

চাকিরপশার ইউনিয়নের আমতলী বাজারে ডিলারের উপস্থিতি না থাকলেও একই ডিলার পয়েন্ট উমর মজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাট বাজারে পাওয়া গেছে। ডিলারের স্বত্বাধিকারী মমিনুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে অনেক বছর ধরে ব্যবসা করি। যে ব্যবসা করি, তা অফিসের লোক জানে। এখানে সরকারি মূল্যে সার বিক্রি করি। যখন ডিলার পয়েন্ট নিয়েছিলাম, তখন আমতলী বাজারে তেমন ব্যবসা হতো না, তাই ব্যবসা করি অন্য বাজারে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, আমরা উপজেলার সব ইউনিয়নের সারের ডিলারদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের মতামত নিয়ে বিধিমতো ডিলারদের ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করেছি। তবে এক ইউনিয়নের ডিলার আরেক ইউনিয়নে সার বিক্রি করতে পারে কি না, এ বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দিতে পারছি না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কুড়িগ্রামের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যে ইউনিয়নে ডিলার পয়েন্ট আছে, সেখানেই সার বিক্রি করতে হবে। এটি নিয়ম।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, এক ইউনিয়নের ডিলার আরেক ইউনিয়নে সার বিক্রি করতে পারে কি না, তা কৃষি কর্মকর্তার বিষয়। তবে আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

সূত্র জানায়, ফরকেরহাটের বাসিন্দা ও বিএনডিসি সারের ডিলার আল রায়হান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী দুলাল মিয়া ও আশিক বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মমিনুল ইসলাম একই পিতার সন্তান। তবে তারা ডিলারের লাইসেন্স করার সময় ভোটার আইডি কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে পিতার নাম পরিবর্তন করেছেন। মমিনুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, নানাবিধ সুবিধার জন্য আমি আমার চাচাকে বাবা বানিয়েছি। কারণ তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, যদি এনআইডি জালিয়াতি হয়ে থাকে, তবে এটি গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত প্রয়োজন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪