খাদেমুল বাবুল, জামালপুর: জামালপুরে চলতি আমন মৌসুমে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ধানের আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানা যায়, এই বছর আমন মৌসুমে জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলায় ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর, সরিষাবাড়ীতে ১৭ হাজার ৯৪০ হেক্টর, মেলান্দহে ১৭ হাজার ৬৫৫ হেক্টর, ইসলামপুরে ১২ হাজর ২৬০ হেক্টর, দেওয়ানগঞ্জে ১০ হাজার ৪৬৫ হেক্টর, মাদারগঞ্জে ১৭ হাজার ৬৮০ হেক্টর এবং বকশীগঞ্জ উপজেলায় ১৩ হাজর ৩৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকরা জানান, এবছর বন্যা কম হওয়ায় ধান চাষ বেশি হয়েছে। কারেন্ট পোকা নামের একধরনের পোকার আক্রমণে ধানের বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় হতাশ কৃষকরা।
আব্দুস সাত্তার নামে এক কৃষক জানান, সার-বীজ, শ্রমিক ও সেচ খরচ অনুযায়ী এক মণ আমন ধান উৎপাদনে খরচ হয় ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা। বর্তমান বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা। এতে আমাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে।
জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) এ.এল.এম রেজুয়ান বলেন, চলতি বছর আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ ও বন্যা কম হওয়ার কারণে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এই বছর লক্ষমাত্রার চেয়ে ৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামালপুর একটি নদনদী বিধৌত জনপদ। এই জেলার বুক চিড়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা-ব্রহ্মপুত্রসহ বেশ কয়েকটি ছোট বড় নদনদী। যেকারণে এই জেলার মাটি অত্যান্ত উর্বর ও যে কোন ফসল উৎপাদনে উপযোগী। ফলে এ জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব