কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী ও মধুপুরে দায়ের করা একটি প্রতারণার মামলাকে কেন্দ্র করে বাদীর স্বামীকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা কাউন্টার মামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদীর স্বামী কালিহাতী থানায় ১০ ডিসেম্বর সাইবার ক্রাইম আইনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের সোহরাব আলীর মেয়ে সুমি আক্তার (৩০) গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর মধুপুর আমলী আদালতে একটি প্রতারণার মামলা (সি.আর ৬৬৯/২০২৪) দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী হিসেবে ঘাটাইল উপজেলার গৌরাঙ্গী গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানের (৩৪) নাম উল্লেখ করা হয়।
আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য মধুপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আদালত আসামি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
তবে সমন জারির পরপরই পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলা থেকে রেহাই পেতে এবং বাদীপক্ষকে চাপে রাখতে আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ও তার সহযোগীরা বাদী সুমি আক্তারের স্বামী মো. আশিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাউন্টার মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।
ভুক্তভোগী মো. আশিক বলেন, আমার স্ত্রী যে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন, সেই মামলার প্রধান আসামি মোস্তাফিজুর। আমি ওই মামলার ১ নম্বর সাক্ষী হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে টার্গেট করে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত মোস্তাফিজুর রহমানসহ মাহাবুব আলম ও আলামিন নামের আরও দুই যুবকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ কালিহাতী থানায় সাইবার ক্রাইম আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে কালিহাতী থানার এসআই আসাদ জানান, আমি ছুটিতে ছিলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনজীবীরা বলছেন, চলমান কোনো মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে কাউন্টার মামলা দায়ের বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আদালত কর্তৃক সমন জারির পর এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
মধুপুর ও কালিহাতী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব