স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় অপরাধীকে খুঁজে বের করতে সরকার সর্বোচ্চ ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব পাওয়া উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, যে ঘৃণ্য অপরাধটি ঘটেছে, সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অপরাধীকে খুঁজতে সরকার সর্বোচ্চ ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অপরাধী ভারতে চলে গেছে বলে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, খবর তো অনেক রকমেরই আছে। যে খবরটি সঠিক হবে, তার একটি ব্যাখ্যাও নিশ্চয়ই লোকে দাঁড় করাবে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এবং তফসিল ঘোষণার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানুষ যত নির্বাচন চাচ্ছে, মানুষ যত নির্বাচনমুখী হচ্ছে, সরকার যত কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থানে যাচ্ছে নির্বাচন নিয়ে, ততই নির্বাচনের পরিবেশকে ভীতিকর করে তোলার জন্য এ ধরনের কাজ করা হচ্ছে। আমরা দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সরকার। আমাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে তারিখে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন সেই তারিখেই হবে। অপচেষ্টা থাকবে; ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের যে ফুটপ্রিন্ট রয়ে গেছে, এগুলো তারই কিছু আউটকাম।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো প্রেস বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে নির্বাচনের ভিত দুর্বল করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের আক্রমণ করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সবসময় এ ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করেছে। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের হীন, কাপুরুষচিত ও ষড়যন্ত্রমূলক আক্রমণের জবাব দেবে সঠিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদারের আবেদন এবং দায়িত্বশীল মহলে আতঙ্কের বিষয়টি উঠে এসেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনার পর যদি আমরা প্রস্তুতি না নেই, তাহলে সেটি কোনো বিচক্ষণতার লক্ষণ হবে না। এটিকে আমি আতঙ্ক বলব না, বরং প্রস্তুতি বলব, যাতে প্রতিপক্ষ আর কোনো সুযোগ নিতে না পারে।
অপরাধী এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, তাহলে প্রস্তুতির অর্থ কী? জবাবে তিনি বলেন, আপনি (সাংবাদিক) কেন প্রস্তুতির সঙ্গে গ্রেপ্তারকে মেলাচ্ছেন? অপরাধী পার পেয়ে গেছে এ কথা কোথা থেকে এলো? সব অপরাধের অপরাধী ধরতে আমরা তৎপর। আমরা বারবার স্পষ্ট করেছি যে অপরাধীকে ধরতে সর্বাত্মক ও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকার সমন্বয় করতে পারছে না, এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, নন-বেইলেবল ও বেইলেবল মামলার অর্থ আপনাকে বুঝতে হবে। নন-বেইলেবল হলেও বিচারক চাইলে জামিন দিতে পারেন, আবার বেইলেবল হলেও চাইলে গ্রেপ্তার দিতে পারেন। কো-অর্ডিনেশন হচ্ছে না এই কথা আপনাকে কে বলেছে? একদিকে বলা হচ্ছে বিনা বিচারে আটক রাখা হয়েছে, আবার বলা হচ্ছে জামিন কেন দেওয়া হলো। কো-অর্ডিনেশন না থাকলে পরিস্থিতি কী হতো, সে বিষয়ে হয়তো আপনার ধারণা নেই। একটি ঘটনা দিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়। সরকার সেই ঘৃণ্য অপরাধের অপরাধীকে খুঁজতে সর্বোচ্চ ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এ মামলার বিচার নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ কমিটমেন্ট রয়েছে। তবে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় যারা যুক্ত, তাদের হাতে কতটুকু তথ্য-উপাত্ত আছে, সেটাও বাস্তবতা। বারবার সময় বাড়ানো হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া যাচ্ছে না, এ বিষয়গুলো আপনারাও দেখছেন।
তিনি বলেন, এটি জাতির বিবেকের সঙ্গে জড়িত একটি প্রশ্ন। একটি দেশের আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের বড় প্রশ্ন এখানে রয়েছে। এটিকে কোনোভাবেই আন অ্যাডরেসড রাখা যাবে না। সরকার তদন্তকারীদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, এই বিচার সরকার দেখতে চায়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের জায়গা থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা তা করব।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব