ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: আঞ্চলিক সীমান্ত উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই থাইল্যান্ডে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল গত সপ্তাহে সংসদ ভেঙে দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই এই নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দল পিপলস পার্টি-এর সঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেন আনুতিন।
রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি থাইল্যান্ড বর্তমানে প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে। দুই দেশের মধ্যকার এই উত্তেজনা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে থাইল্যান্ডের জনগণ মোট ৫০০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন। এর মধ্যে ৪০০ জন সংসদ সদস্য সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন, আর বাকি ১০০টি আসন দলীয় তালিকার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে।
এ ছাড়া প্রতিটি রাজনৈতিক দল সর্বোচ্চ তিনজন করে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ পাবে। কমিশন আরও জানায়, আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফল প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে নতুন সংসদকে স্পিকার নির্বাচন করতে হবে এবং এরপর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ২০২৩ সালের আগস্টের পর থেকে থাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পিপলস পার্টির সমর্থনে তিনি গত সেপ্টেম্বর ক্ষমতায় আসেন। সে সময় শর্ত ছিল। তিনি সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন এবং জানুয়ারির শেষ নাগাদ সংসদ ভেঙে দেবেন।
৬৯ বছর বয়সী আনুতিন দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে সক্রিয়। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়ার সঙ্গে চলমান সীমান্ত সংঘাতের ফলে দেশটিতে জাতীয়তাবাদী আবেগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আনুতিনের জন্য রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, পিপলস পার্টিই বর্তমানে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। দলটির আগের নাম ছিল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি, যারা ২০২৩ সালের সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম