রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এই হামলা ভেনেজুয়েলার একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করার কয়েক দিনের মধ্যে ঘটেছে, যা লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিলিটারি সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে সোমবার তিনটি জাহাজে মারাত্মক কাইনেটিক স্ট্রাইক চালানো হয়। প্রথম জাহাজে ৩ জন, দ্বিতীয়টিতে ২ জন এবং তৃতীয় জাহাজে ৩ জন নিহত হয়েছেন। যদিও নিহতদের মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে, তবে এর জন্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দ্বারা সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন হামলায় ইতিমধ্যে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন। মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
পেন্টাগনের দাবি, এসব হামলা মাদক পাচার রোধের উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, ড্রোন এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে ভেনেজুয়েলা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সতর্ক করেছেন, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হবে। সম্প্রতি এই দ্বীপরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের বিমানবন্দর ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছে, যা সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধিকে সমর্থন করে।
ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কামলা প্রসাদ-বিসেসার মন্তব্য করেছেন, “মাদক পাচারকারীদের ‘টুকরো টুকরো হয়ে যেতে’ দেখা নাগরিকদের মৃত্যুর চেয়ে নিরাপদ।”
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম