ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৫ নম্বর কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াবাড়িয়া বটতলা পশ্চিমপাড়ায় পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার প্রবাসী লিটন মণ্ডলের স্ত্রী বেদেনা খাতুনের সঙ্গে তার চাচাতো দেবর সুজ্জাতোল্লা ওরফে খাজার দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। প্রায় এক বছর আগে বেদেনা খাতুনের দুই ছেলে পলাশ আহমেদ ও পিয়াশ তাদের মা ও খাজাকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পায় এবং পারিবারিক মান-সম্মানের কথা ভেবে বিষয়টি গোপন রাখে।
কিন্তু মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে বেদেনা খাতুন সুজ্জাতোল্লা খাজার বাড়ির পাশে গিয়ে তার ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় খাজার পরিবারের নারী সদস্যরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি তাদের মধ্যে চলমান সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। এ নিয়ে প্রবাসী লিটন মণ্ডলের ভাই আনোয়ারের সঙ্গে খাজার পরিবারের লোকজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ছেলের পক্ষের লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে মেয়ের পক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে মেয়ের পক্ষের ৪ জন আহত হন।
আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে বেদেনা খাতুন বলেন, “খাজার সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক দিনের। গত তিন-চার দিন সে আমাকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে বেড়িয়েছে, কিন্তু বিয়েতে রাজি হচ্ছে না। আমাদের একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুজ্জাতোল্লা খাজার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, “খাজার সঙ্গে ওই নারীর সম্পর্ক আছে কি না আমরা নিশ্চিত নই। আজ তিনি আবার এসেছিলেন, খাজাকে না পেয়ে চলে যান।”
এ ঘটনায় সংঘর্ষের বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রবাসী লিটন মণ্ডলের ভাই আনোয়ার। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন