| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ফিলিস্তিনিসহ সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫ ইং | ০৩:৩০:৩৪:পূর্বাহ্ন  |  ১০৯৬৫৭০ বার পঠিত
ফিলিস্তিনিসহ সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসুরক্ষার অজুহাতে ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীসহ সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান, সিয়েরা লিওন, লাওস এবং সিরিয়া।

ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, এসব দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি তথ্য আদান-প্রদানে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও তার নাগরিকদের সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি থেকে সুরক্ষা দিতে এই পদক্ষেপ অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হবে।

এর আগে, চলতি বছরের নভেম্বরের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ১৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন সংক্রান্ত প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল। সে তালিকায় ছিল আফগানিস্তান, মিয়ানমার, বুরুন্ডি, শাদ, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেনসহ একাধিক দেশ।

পরে গত ৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ৩২টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। তবে অতিরিক্ত ১৩টি দেশের নাম সে সময় প্রকাশ করা হয়নি।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি সমুদ্রসৈকতে বন্দুক হামলায় ১৫ জন ইহুদি নিহত হওয়ার ঘটনার পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান নেওয়া অনেকের কাছেই অনুমিত ছিল। এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।

তবে সিরিয়ার নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত কিছুটা বিস্ময় তৈরি করেছে। কারণ, অল্প কিছুদিন আগেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ শারা হোয়াইট হাউসে এসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শারা’র ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও, সেই সফরের আগেই তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের হামলায় দুই মার্কিন সেনা এবং তাদের একজন দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’এ ট্রাম্প এই হামলাকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং এর জেরে কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেন।

হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও সিরিয়ায় এখনো কার্যকর ও কেন্দ্রীয় নাগরিক নথিপত্র প্রদান ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে পাসপোর্ট ইস্যু, নাগরিক যাচাই এবং নিরাপত্তা স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ।



রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪