রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশের প্রথমসারির বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে বিক্ষুব্ধ জনতা রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেটে অবস্থিত সংবাদমাধ্যম দুটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালায়। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের বহু সাংবাদিক ও কর্মচারী ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবন দুটি অনেকাংশে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া ভবন দুটিতে তখনো ধোঁয়া উড়ছিল। ভবনের সামনে সকাল থেকেই উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধান ফটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ভবনের অধিকাংশ জানালার কাচ ভাঙা, ভেতরের আসবাবপত্র তছনছ এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন পুরোপুরি নেভাতে কাজ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি’র মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টার কিছু আগে শাহবাগ থেকে একটি মিছিল কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ভবনে ভাঙচুর চালায় এবং কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে টেবিল-চেয়ার ও নথিপত্র বাইরে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ভবনটিতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রথম আলো অফিসে হামলার পর উত্তেজিত জনতা ফার্মগেটে অবস্থিত ডেইলি স্টার কার্যালয়ের দিকে যায়। সেখানেও ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। হামলার সময় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর ডেইলি স্টার ভবনের সামনে গেলে একদল হামলাকারীর হাতে তিনি নাজেহাল হন। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়।
হামলার সময় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের অনেক সাংবাদিক ও কর্মী ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কয়েক ঘণ্টা পর ভোরের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
এই হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শুক্রবার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার উভয় পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ রয়েছে।
একই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাঙালির সংস্কৃতিচর্চার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছায়ানট-এর ভবনে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং সেখানে আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে আরও এক দফা হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন-এর বাসভবনেও হামলার ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ নভেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। চিকিৎসার জন্য গত সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি