রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শৈশবের ক্লাব সান্তোসে প্রত্যাবর্তনের পর উত্থান–পতনে ভরা যাত্রায় এবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক এলো ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়রের জীবনে। দীর্ঘদিনের হাঁটুর সমস্যার অবসানে সোমবার অস্ত্রোপচারের টেবিলে যেতে হয়েছে এই তারকা ফরোয়ার্ডকে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্ত্রোপচার সফল হলেও আগামী মৌসুমের শুরুতে তার মাঠে ফেরা এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চোটজর্জর একটি বছর কাটানোর পর ২০২৫ মৌসুম শেষ হতেই মেনিস্কাসের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন ৩৩ বছর বয়সী নেইমার। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র ব্যথা নিয়েই তিনি মাঠে নেমেছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সান্তোসকে অবনমন থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা রাখেন এই ব্রাজিল তারকা।
নেইমারের লক্ষ্য ছিল, ২০২৬ সালকে তুলনামূলকভাবে ভালো ফিটনেস নিয়ে শুরু করা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের পথে হাঁটেন তিনি।
সান্তোস ক্লাবের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে নেইমারের হাঁটুর মিডিয়াল মেনিস্কাসের সমস্যার চিকিৎসায় আর্থ্রোস্কপি পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। ক্লাব জানায়, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং বর্তমানে খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, অস্ত্রোপচারটি তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরের হলেও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে। ফলে সান্তোসের প্রাক-মৌসুমের বড় একটি অংশে নেইমারের অনুপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত। জানুয়ারির শুরুতে দলীয় অনুশীলন শুরু হলেও এই সময়টাতে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে তাকে।
নেইমারের এই শারীরিক অবস্থার প্রভাব পড়তে পারে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও। ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে দলে জায়গা পেতে হলে খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ ফিটনেস ও নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ফর্মে থাকা বাধ্যতামূলক। সে কারণে নেইমারের বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
এক সময় বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত নেইমারের ক্যারিয়ার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোটের কারণে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শৈশবের ক্লাবে ফিরে নতুন করে শুরু করার স্বপ্ন দেখলেও, হাঁটুর এই অস্ত্রোপচার তার সামনে আবারও বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করল—তিনি কি আবার আগের মতো ফিরতে পারবেন?
নেইমারের সমর্থকদের চোখ এখন পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ও মাঠে ফেরার সময়সূচির দিকে। সময়ই বলে দেবে, এই নতুন মোড় তার ক্যারিয়ারে প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে, নাকি আরও অনিশ্চয়তা যোগ করে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম