রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : প্রায় ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান। দেশের মাটিতে প্রথম জনসভায় তিনি দেশের সকল ধর্মের, সকল শ্রেণি-পেশার সকল মতাদর্শের মানুষকে নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিমানবন্দর থেকে নেমেই তিনি রাজধানীর ৩০০ ফিট সভাস্থলে যান। সেখানে উপস্থিত লাখ লাখ মানুষের সামনে তিনি ঘোষণা দেন।
তারেক রহমান বলেন, এই দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বসবাস করে। আমরা সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে একজন মা।
প্রায় ১৫ মিনিটের এই বক্তব্যে তিনি একাধিকবার দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা এমন নিরাপদ দেশ গড়ে তুলতে চাই যে দেশে একজন নারী যেন নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ফিরে আসতে পারে।
তিনি বলেন, এই দেশের অর্ধেক মানুষ নারী। ৪০ লক্ষ প্রতিবন্ধী, কয়েক কোটি কৃষক। তাদের আকাঙ্ক্ষা আছে এই রাষ্ট্রের প্রতি। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।
একাত্তর সালে শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, আমাদের শহীদরা একাত্তরে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এমন একটি দেশের জন্য যেই দেশের স্বপ্ন প্রতিটি মানুষ দেখে।
নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর শত শত মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কয়েকদিন আগে ২৪-এর আন্দোলনের নেতা ওসমান হাদী শহীদ হয়েছে। হাদী চেয়েছিল এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। হাদীর মতো ২৪-এর আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, একাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন—এই মানুষগুলোর রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই দেশে আধিপত্যবাদী শক্তি এখনো তৎপর রয়েছে। আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা কোনো উসকানিতেই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করবো না।
মার্টিন লুথার কিং-এর বিখ্যাত ভাষণের উল্লেখ করে বলেন, মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’। আমি আপনাদের বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। দেশের মানুষের স্বার্থে এই প্ল্যান। এই প্ল্যান যদি বাস্তবায়ন করতে হয় তাহলে বাংলাদেশের সকল মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আসুন আমরা প্রার্থনা করি, আমরা যেন আমাদের প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে পারি।
আজ আসুন সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি আমরা যেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায় পরায়ণতার আলোকে দেশ পরিচালনার চেষ্টা করবো।
আজ আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, কিন্তু আমার মন পড়ে আছে আমার মা, আপনাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে। কিন্তু সবার আগে আপনাদের কাছে এসেছি। আমি আর এখনা থেকে খালেদা জিয়ার কাছে যাবো। তিনি নিজের জীবনের চেয়ে আপনাদের বেশি ভালোবেসেছেন, তাই আমি হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের কাছে এসেছি।
বক্তব্যের শেষে তিনি পুনরায় বলেন, আমরা যে ধর্মের মানুষ হই, যে দলের মানুষই হই—সকল বিভেদ ভুলে, যে কোনো মূল্যে দেশের শান্তি ধরে রাখতে হবে। যে কোনো মূল্যে আমাদের নিরাপত্তা ধরে রাখতে হবে। বিশৃঙ্খলাকে পরিহার করতে হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন