আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : মিয়ানমারে সামরিক সরকার আয়োজিত সাধারণ নির্বাচনকে একটি 'প্রহসন' বলে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ)। রবিবার থেকে ধাপে ধাপে শুরু হওয়া এই নির্বাচনকে সামরিক সরকারের বৈধতা পাওয়ার একটি সাজানো নাটক হিসেবে বর্ণনা করেছে গোষ্ঠীটি। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেএনইউ-এর মুখপাত্র স ত নি সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচন মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধকে আরও উসকে দেবে এবং কয়েকটি দেশ ছাড়া বিশ্বের বাকি দেশগুলো এই ফলাফল গ্রহণ করবে না। ভারত প্রকাশ্যে মিয়ানমারে একটি "অন্তর্ভুক্তিমূলক" নির্বাচনের কথা বললেও, কেএনইউ-এর মতে দিল্লির এই অবস্থান এখনও অস্পষ্ট।
ভারতের জন্য কেএনইউ একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ, কারণ কারেন প্রদেশটি ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ের প্রধান করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই সড়কটি মণিপুরের মোরে থেকে থাইল্যান্ডের মে সতকে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হচ্ছে। অথচ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কেএনইউ-এর যোগাযোগ এখনও অত্যন্ত সীমিত।
২০২৫ সালে সামরিক বাহিনী আগের বছরের তুলনায় কিছু হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। কেএনইউ মুখপাত্র এর কারণ হিসেবে চীনের পক্ষ থেকে উন্নত ড্রোনসহ বিশাল সামরিক সহায়তা এবং জান্তার বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইনকে দায়ী করেছেন।
স ত নি আরও জানান, শত শত ভারতীয়সহ বিদেশি নাগরিকদের যে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে আটকে রাখা হয়েছিল, সেগুলো মূলত সামরিক সরকারপন্থী মিলিশিয়াদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় পরিচালিত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক বাহিনীই এই অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রসারে সহায়তা করছে। তবে কেএনইউ তাদের নিজস্ব এলাকায় এই ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং তা বন্ধ করতে কাজ করছে।
মুখপাত্রের মতে, সামরিক সরকার বর্তমানে দেশের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং এর ফলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সামরিক সরকারের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি