আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি: বর্ষবরণের আনন্দ উদযাপনের প্রস্তুতিতে বড়সড় বিঘ্ন ঘটিয়ে ভারত জুড়ে দ্বিতীয় দফায় বছরের শেষ দিনে ধর্মঘটে শামিল হয়েছে সুইগি, জোম্যাটো, ব্লিনকিট এবং জেপ্টোর মতো ডেলিভারি সংস্থাগুলোর কর্মীরা।
গত ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের ধর্মঘটের পর, ৩১ ডিসেম্বর এই প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল।মূলত ১০ মিনিটের দ্রুত ডেলিভারি (১০-মিনিট ডেলিভারি মডেল) নিষিদ্ধ করার দাবিতে সরব হয়েছেন এই 'গিগ' কর্মীরা।
ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ অ্যাপ-বেসড ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স (আইএফএটি) এবং তেলেঙ্গানা গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের আহ্বানে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি-এনসিআর, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন অঞ্চলে এই কর্মবিরতি পালিত হয়েছে।ডেলিভারি কর্মীদের অভিযোগ, নামমাত্র আয়ের বিনিময়ে তাঁদের ওপর অমানবিক কাজের চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ১০ মিনিটের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়ার অসম্ভব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন ভাঙতে হচ্ছে এবং প্রাণঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় বেরোতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যকে লেখা এক চিঠিতে ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন যে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বচ্ছ মজুরি কাঠামো তৈরি এবং নতুন শ্রম বিধির অধীনে তাঁদের অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে। চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৪ লক্ষ অ্যাপ-ভিত্তিক কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী এই সংগঠনটি অনিয়মিতভাবে আইডি ব্লক করা বা সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান চায়।
বছরের শেষ রাতে যেখানে অনলাইন ফুড ও গ্রোসারি অর্ডারের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, সেখানে এই ধর্মঘটের ফলে কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো শহরগুলোতে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
ইউনিয়নগুলোর দাবি, ২৫ ডিসেম্বরের ধর্মঘটে প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল, কিন্তু সংস্থাগুলো আলোচনার পরিবর্তে কর্মীদের ভয় দেখানো বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর প্রতিবাদেই দ্বিতীয় দফায় এই আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন কর্মীরা। খুচরো বিক্রেতা এবং ই-কমার্স সংস্থাগুলো বছরের শেষের বড় ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে এই ধর্মঘটের ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি