| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চরভদ্রাসনে শীতবস্ত্র পায়নি দুস্থরা, সুর্যের তাপই ভরসা

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৪, ২০২৬ ইং | ১৪:০৯:১০:অপরাহ্ন  |  78618 বার পঠিত
চরভদ্রাসনে শীতবস্ত্র পায়নি দুস্থরা, সুর্যের তাপই ভরসা

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মাপারের বসতিরা গত দুই সপ্তাহ ধরে বরফশীতল হাওয়া ও তুষারাচ্ছন্ন বাতাসে হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপনকরছে। পদ্মাপারের প্রায় পাঁচ হাজার ছিন্নমূল পরিবার তীব্র শীতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। শীতের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন মজুর ও শ্রমজীবী পরিবারগুলো। এ বছর সরকারি বা বেসরকারিভাবে একটি কম্বলও পাননি বলে জানিয়েছেন শীতার্তরা। রাত পোহালেই তারা সূর্যের আশায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকেন। একফালি রোদই যেন এখন পদ্মাপারের বসতিদের শীতের চাঁদর। কাঠ ও খড় জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলার ভাঙনকবলিত প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পদ্মা নদীর বিভিন্ন পাড় এলাকায়, বিভিন্ন বেড়িবাঁধে, রাস্তার ধারে ও উন্মুক্ত ফসলি মাঠে দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় গেড়ে বসবাস করে আসছেন। তারা বেশিরভাগই শ্রমজীবী, মজুর ও জেলে পরিবার। শীত নিবারণের মতো একটি গরম কাপড় কেনার সামর্থ্যও তাদের নেই। এ বছর উপজেলায় তীব্র শীত থাকলেও এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো শীতবস্ত্র বা কম্বল অনুদান পাননি বলে জানিয়েছেন শীতার্তরা।

শনিবার দুপুরে উপজেলা সদর ইউনিয়নের হাজিডাঙ্গী গ্রামের পদ্মাপারের বসতির বাসিন্দা নূরজাহান বেগম (৫৮) রাস্তার ধারে মৃদু রোদে বসে জানান, “এক সপ্তাহ পর একটু সূর্যের মুখ দেখছি। বিধার নাতি-নাতনিদের নিয়ে রোদ পোহাচ্ছি। শীতে এত কষ্ট করলাম, কিন্তু এ বছর আমাগো কেউ একটা কম্বলও দেয় নাই। কোনো চেয়ারম্যান-মেম্বারও আমাদের খবর নিতে আসে নাই।”

একই এলাকার সামচু শেখ (৫৫) বলেন, “পদ্মাপাড়ে বরফের মতো শীতে রাতভর পোলাপান লইয়া গাদাগাদি করে পড়ে থাকি। দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মেলে না। পদ্মাপাড়ে বরফের গুঁড়ার মতো বাতাস গায়ে এসে লাগে। শীতে জান বাঁচে না, তাই মাঠে কাজ বন্ধ রাখছি। এখন পর্যন্ত কেউ একটা কম্বল দিয়েও আমাদের খবর নেয়নি।”

একই দিন উপজেলার বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের পদ্মাপারের বসতির সাবেক ইউপি সদস্য আ. হক (৬০) বলেন, “এ বছর চেয়ারম্যান-মেম্বাররা সরকারিভাবে যেসব কম্বল বরাদ্দ পেয়েছেন, তার একটি কম্বলও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করেননি। সবই স্বজনদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

চরভদ্রাসন জেলখানার চারদিকে বসবাসরত জোসনা আক্তার, শাহনাজ বেগম ও জাহানারা বেগম—এই দুই বোন ও এক মেয়ের পরিবারে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। অসহায়ভাবে চলছে তাদের জীবনযাপন। তারাও কোনো কম্বল পাননি। এছাড়া এখানে বসবাসরত অন্যান্য ছিন্নমূল পরিবারও কোনো কম্বল পায়নি। উপজেলা প্রশাসন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও বাজার এলাকায় কিছু কম্বল বিতরণ করেছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস সূত্র জানায়, এ বছর শীত মৌসুমে উপজেলায় মোট দুই হাজার চারশত দশ পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের হাতে ২০০ পিস করে মোট ৮০০ পিস কম্বল দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজে ঘুরে ঘুরে ৩০০ পিস কম্বল বিতরণ করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে কম্বল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জালাল উদ্দিন বলেন, “আমি অত্র উপজেলায় নতুন এসেছি। ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা সঠিকভাবে কম্বল বিতরণ করেছেন কি না, তা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।”

অন্যদিকে উপজেলার গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী জানান, “আমার ইউনিয়নে ২০০ কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো বিতরণের জন্য ১২ জন মেম্বারের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদ্মাপারের এক শিক্ষক বলেন, “আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় কম্বল বরাদ্দ অপ্রতুল—এ কথা সত্য। কিন্তু এই তীব্র শীতে একটি কম্বলও একজন দুস্থ শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে। তাই বরাদ্দকৃত কম্বল সঠিকভাবে বিতরণ হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”


রিপোর্টার্স২৪/এসএন

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪