| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ বহনের সিদ্ধান্ত বাতিল চায় টিআইবি

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ০৬, ২০২৬ ইং | ২০:০৮:৫১:অপরাহ্ন  |  43861 বার পঠিত
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ বহনের সিদ্ধান্ত বাতিল চায় টিআইবি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

সিনিয়র রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা ও খাওয়ার খরচ বহনের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক এবং স্বার্থের দ্বন্দ্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যয়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

তিনি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে এমন ঠুনকো যুক্তির ওপর ভর করে নেওয়া ইসির এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হতে বাধ্য।

বিবৃতিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহনের সিদ্ধান্ত যে বৈষম্যমূলক, তা নির্বাচন কমিশনের উপলব্ধিতে না আসায় আমরা বিস্মিত। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হলে দেশীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য একই ব্যবস্থা কেন থাকবে না সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি বলেন,এমন সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে সুবিধাভোগী পর্যবেক্ষকদের ‘ভাড়াটে’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় থেকে তারা কতটা স্বাধীন ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্তভাবে নির্বাচন মূল্যায়ন করতে পারবেন, তা নিয়েও গুরুতর সন্দেহ দেখা দেয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পর্যবেক্ষকরা শুধু নির্বাচন নয়, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকারও মূল্যায়ন করবেন। সেই কমিশনেরই অর্থায়ন ও আতিথেয়তা গ্রহণ করে তারা কতটা নিরপেক্ষ, নির্মোহ ও পক্ষপাতহীন মূল্যায়ন করতে পারবেন এই প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কোন যুক্তিতে তারা ইসি বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এমন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন? নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের মানদণ্ড বিবেচনায় রেখে তারা কি সত্যিই বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করতে পারবেন?

অতীত নির্বাচনের উদাহরণ টেনে সমালোচনা করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,২০০৮ সাল বা তার আগের নির্বাচনে রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিদেশিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন কেন দেখা দিয়েছিল—সেই প্রশ্নের উত্তর আজও স্পষ্ট নয়।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পতিত সরকারের প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছিল, সে অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের শিক্ষা নেওয়া উচিত।

জনআকাঙ্ক্ষা বিতর্কিত করবে না এই প্রত্যাশা করে বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন,জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের মধ্যে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, নির্বাচন কমিশন তা বিতর্কিত করার পথে হাঁটবে না। আমরা বিশ্বাস করি, কমিশন এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪