ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে ছয়জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদের মধ্যে চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজন সন্দেহভাজন সহযোগীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সারাদেশের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন কেন্দ্রে একযোগে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ সময় কেন্দ্রে প্রবেশের সময় বা পরীক্ষা চলাকালীন স্মার্টফোন, সিম-সাপোর্টেড ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভোটপাড়া গ্রামের শনি চরণ সিংহের ছেলে নরদেব চন্দ্রকে (৩১) সিম-সাপোর্টেড ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ কেন্দ্রে প্রবেশের দায়ে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিলো কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মিলননগর গ্রামের পরেশ চন্দ্র বিশ্বাসের মেয়ে জ্যোতি রানী বিশ্বাসকে (২৯), ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের দায়ে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিলো ঠাকুরগাঁও রোড ডিগ্রি কলেজ।
পীরগঞ্জ উপজেলার খটসিংগা গ্রামের মো. আইনুলের মেয়ে মোছা. রিপা আক্তারকে (২৫) সিম-সাপোর্টেড ইলেকট্রনিক রিসিভারসহ পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের দায়ে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিলো ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
ঠাকুরগাঁও সদরের কোষালবাড়ী এলাকার আনছারুল ইসলামের ছেলে মো. আল-আমিন ইসলামকে (২৯) স্মার্টফোনসহ কেন্দ্রে প্রবেশের দায়ে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিলো ঠাকুরগাঁও রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পরদেশীপাড়া গ্রামের নবীর উদ্দীনের ছেলে মো. সুমন আলী (২৮) স্মার্টফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও পরীক্ষা শুরুর আগে স্বেচ্ছায় জমা দেওয়ায় তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়নি। তবে তাকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছে আদালত। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ঠাকুরগাঁও রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়।
এছাড়া পীরগঞ্জ উপজেলার খটসিংগা গ্রামের আইনুলের ছেলে মো. নাজমুল হুদাকে (২৮) সন্দেহভাজন সহযোগী হিসেবে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) নাঈম আশরাফ বলেন, ‘পরীক্ষার মর্যাদা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অসদুপায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ছিল শান্ত ও সুশৃঙ্খল।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব