স্টাফ রিপোর্টার, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) মধ্যরাতে হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কোনো গোপন বৈঠক নয়; বরং একটি পারিবারিক দাওয়াতের অনুষ্ঠান ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘ডামি প্রার্থী’ ছিলেন আমজাদ হোসেন তাজু। তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তার বাসায় দাওয়াতের আড়ালে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতা অংশ নেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৈঠকে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহও যোগ দেন। বৈঠক শেষে দাওয়াতের অনুষ্ঠানেও তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত ওই বাসা ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
স্থানীয়দের দাবি, ওই দাওয়াতে হাতীবান্ধার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে জেলার বাইরে কর্মরত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি কোনো রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেননি বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তার বলেন,এটি কোনো বৈঠক ছিল না। আমাদের বাসায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান ছিল। সেই দাওয়াতেই ওসি সাহেব এসেছিলেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন জানান,ওই বাসায় দাওয়াতে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গিয়েছিলেন। তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি