রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিচার শুরু করেছে। ট্রাইব্যুনাল তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আদালতে অভিযোগ গঠন করে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছে।
বিচারিক প্যানেলের নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সঙ্গে ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়ে জিয়াউল নিজেকে নট গিল্টি বা অপরাধী নয় বলে দাবি করেন। আগের শুনানিতে তার আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন। তবে আদালত তার অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দোষী নাকি নির্দোষ তা যাচাইয়ের জন্য বিচার শুরু করার আদেশ দেন।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও শাইখ মাহদী, আর আসামিপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও নাজনীন নাহার।
মামলায় আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে: ২০১১ সালের ১১ জুলাই, গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে জিয়াউলের উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনের হত্যা। ২০১০–২০১৩ সালের মধ্যে, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী খালঘেঁষা বলেশ্বর নদীর মোহনায় ৫০ জনের হত্যা। একই সময়কাল, বরগুনা ও বাগেরহাটের সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে আরও ৫০ জন হত্যা।
জিয়াউলকে ২৩ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় এবং একই দিন ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের প্রমাণাদি পর্যবেক্ষণ করে আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগামীতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও আদালতে বিস্তারিত শুনানি হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম