| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশ–নেপাল অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্তের পথে

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ ইং | ০৩:৫৪:১০:পূর্বাহ্ন  |  ৯৩৪২৩০ বার পঠিত
বাংলাদেশ–নেপাল অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্তের পথে

সিনিয়র রিপোর্টার: বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ–নেপাল অষ্টম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

মঙ্গলবার শুরু হওয়া বৈঠকটি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) শেষ হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে পিটিএ ছাড়াও বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধি, ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং নেপালের পক্ষে শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব রাম প্রসাদ ঘিমির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পিটিএ চূড়ান্ত হলে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্কছাড় কিংবা কম শুল্ক সুবিধা মিলবে, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চললেও নানা জটিলতায় তা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ বৈঠকে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ বাণিজ্যও বিশেষ গুরুত্ব পায়। বর্তমানে বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এই সরবরাহ আরও বাড়াতে নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ আমদানির পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণ বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা ছিল। নেপাল বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় রেলপথের পাশাপাশি নৌপথে ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারে স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যে কারিগরি বাধা (টিবিটি) সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো, পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ করা এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে ছিল।

বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪