লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুর সদরের চরশাহী ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলার ঘটনায় শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটানো এই হামলার পর রাতেই জেলা সদর হাসপাতালে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মো: রায়হান কাজেমী ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা সদর হাসপাতালে বিক্ষোভ মিছিলও বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর তেমুহনী এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন শহর জামায়াতের আমীর এডভোকেট আবুল ফারাহ নিশান, শহর ছাত্র শিবিরের সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা নাছির উদ্দীন মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের হামলা ন্যাক্কারজনক। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, চরশাহী ইউনিয়নের বটতলা গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জামায়াত নেতা মা. হেজবুল্লাহ সোহেল অভিযোগ করেন, আমাদের পূর্ব ঘোষিত নারীদের নিয়ে সভা চলছিল। তখন বিএনপি নেতাকর্মীরা এসে আমাদের ১০-১২ জন নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা সাইফুজ্জামান শরীফ বলেন, চরশাহী ইউনিয়নে আমাদের একটি প্রোগ্রাম ছিল। সেখানে কিছু মানুষ অভিযোগ করেছে যে নারীদের কাছ থেকে ভোটার আইডি ও ২০ টাকা নেওয়া হবে। আমরা এটি যাচাই করতে গেলে জামায়াত নেতাকর্মীরা এসে আমাদের ৪ জনকে আহত করে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি