স্টাফ রিপোর্টার: দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের অবস্থা “জাতীয় ক্রাইসিস ও ইমার্জেন্সি” পর্যায়ে পৌছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। তিনি বলেন, জিডিপিতে খাতের অবদান ১৩ শতাংশ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সময় বরাদ্দ নেই।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) কারওয়ানবাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, খাতের ব্যবসায়ীরা বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার নিয়ে বিভেদ করছেন না। কিন্তু সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের দায় পরবর্তী সরকারের ওপর পড়ে যাবে। আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করলেও তাদের কাছ থেকে কোন সাড়া পাচ্ছি না। আমাদের খাত নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই।
তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টসগুলো কম দামে কাঁচামাল পেলে কেন বাড়তি দামে কিনবে? টেক্সটাইল শিল্প একবার ডিফল্ট করলে পুনরায় শুরু করা অসম্ভব। কিন্তু এই সম্পদ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে।
শওকত আজিজ রাসেল আরও জানান, গত ২২ মাসে ভারত থেকে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি ১৩৭ শতাংশ বেড়েছে। সরকারের তৎপরতা না থাকায় খাতের সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
বিটিএমএ নেতা জানান, সাত দিনের মধ্যে ১০-৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার স্থগিত না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব স্পিনিং মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হবে। এর ফলে শ্রমিক, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের ওপর বিরাট ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, জিডিপিতে ১৩% অবদান থাকলেও সরকারের ১৩ মিনিট সময়ও আমাদের জন্য নেই। তারা নানা দলের নেতাদের সঙ্গে সময় দিতে পারে, কিন্তু আমাদের খাতের জন্য কোনো সময় বরাদ্দ করে না।
বিটিএমএ সতর্ক করেছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে শ্রমিক অসন্তোষ ও আর্থিক বিপর্যয়ের দায় পুরোপুরি সরকারের কাঁধে পড়বে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি