| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভাঙ্গায় রোগীর মৃত্যু: মাদক নিরাময় কেন্দ্র ভাঙচুর, সিলগালা, দুই কর্মচারী আটক

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ২৩, ২০২৬ ইং | ২১:৫০:৩৫:অপরাহ্ন  |  ৮৭৪৯৮৪ বার পঠিত
ভাঙ্গায় রোগীর মৃত্যু: মাদক নিরাময় কেন্দ্র ভাঙচুর, সিলগালা, দুই কর্মচারী আটক
ছবির ক্যাপশন: আলোর দিশা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে আটক দুই কর্মচারীকে থানায় নেওয়ার সময়। ২. রিহ্যাবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েকজন রোগী

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি)আলোর দিশা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে আব্দুর রাজ্জাক মাতুব্বর (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী কেন্দ্রটির পরিচালকের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে।পরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শিরিন আক্তারের নেতৃত্বে একটি টিম পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আলোর দিশা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রটি সিলগালা করে দেয়। একই সঙ্গে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলার নওপাড়া গ্রামের মৃত মাহাবুব মাতুব্বরের ছেলে মিজানুর রহমান নিজে একসময় মাদকাসক্ত ছিলেন। সুস্থ হয়ে ওঠার পর তিনি কয়েক বছর আগে নওপাড়া গ্রামের সৈয়দ বাড়ির একটি ভবন ভাড়া নিয়ে ‘আলোর দিশা’ নামে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা শুরু করেন। সেখানে আটজন কর্মচারী কর্মরত ছিলেন।

তিন দিন আগে (২০ জানুয়ারি) পৌর এলাকার আতাদি গ্রামের সামাদ মাতুব্বরের ছেলে আব্দুর রাজ্জাককে তাঁর স্বজনরা ১৫ হাজার টাকা ভর্তি ফি ও মাসিক ১২ হাজার টাকা খরচের শর্তে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে খাবার দিতে গেলে রাজ্জাক খাবার ফিরিয়ে দিয়ে কেয়ারটেকার মিতুলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরে বিষয়টি পরিচালককে জানানো হলে কেয়ারটেকার মিতুলসহ কয়েকজন কর্মচারী পাইপ দিয়ে রাজ্জাককে মারধর করেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।রাজ্জাকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন প্রায় অর্ধশতাধিক রোগীর মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা দরজা-জানালা ভাঙার চেষ্টা করেন এবং ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে চিৎকার শুরু করেন। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন ও রোগীর স্বজনরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ স্বজনরা কেন্দ্র পরিচালকের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রিহ্যাবের দুই কর্মচারীকে আটক করে।

নগরকান্দা উপজেলার হরে রাম সাহা অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলে গোবিন্দ সাহাকে তিন মাস আগে ওই কেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও নাম পরিবর্তন করে ‘সবুজ’ রাখা হয়েছে এবং ছেলেকে ফেরত নিতে গেলে নানা অজুহাতে দেওয়া হয়নি।

নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুর রহমান বলেন, ভালো চিকিৎসার আশায় বাবাকে এখানে ভর্তি করেছিলাম। চিকিৎসার নামে যারা বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল আলিম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রিপোটার্স ২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪